মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পাতিগ্রাম ও পাচঘরিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হতাশ\
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার আশপাশের পাতিগ্রাম ও পাচঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিপূরণ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। কয়লা উত্তোলনের ফলে ভূমিধস, ফাটল এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও এখনো পর্যন্তভুক্তভোগী পরিবার তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খনির কার্যক্রমের কারণে জমি ধসে পড়া, ঘরবাড়িতে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি এবং কৃষিজমি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পাতিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বহুবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি।” একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা রোজিনা বেগম জানান, “ক্ষতিপূরণের আশায় দিন গুনছি, কিন্তু এখনো কোনো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
পাচঘরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগীরাও একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, খনির প্রভাবে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে ভূমি ও বসবাড়ী রক্ষা কমিটি ৭য় দফা দাবি জানিয়ে ইতিপূর্বে স্মারলিপি, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। কিন্তু সেগুলি করেও কোন ফল পরিবর্তন হয়নি। গত ১৫/০৪/২০২৬ইং তারিখে ভূমি ও বসতবাড়ী রক্ষ কমিটির সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্নদপ্তরে পাতিগ্রাম পাঁচঘরিয়া মৌজার ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর ক্ষতিপূরনের দাবীতে লিখিত অভিযোগ করেন এবং ক্ষতিপূরনের দাবী জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সভা সমাবেশ, মানববন্ধন সহ নানা রকম আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলনে ৭ দফা দাবি কোন ভাবে তারা মেনে নিচ্ছে না। আমরা ক্ষতিপূরন পাওয়ার জন্য ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য আমাদের এই আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত থাকবে।
এলাকাবাসী দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর আসুহস্তক্ষেপ কামান করেছেন ভূমি ও বসবাড়ী রক্ষা কমিটি, বড়পুকুরিয়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।












