মো: ফেরদৌস ওয়াহিদ সবুজ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রাম রোববার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় উপাসনালয়, বসতবাড়ি ও নিরীহ মানুষের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াবান্দ গ্রামের কাদেরের ছেলে রেজাউল ও আজগর সাহার ছেলে আজাদের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০–২০০ জনের একটি সশস্ত্র দল আদিবাসী ও ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান পল্লীতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আদিবাসীদের শ্মশানকালী মন্দির ভেঙে ফেলে এবং প্রতিমা ভাঙচুর করে পাশের ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আদিবাসীদের কবরস্থানের জমি দখলকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ১৫০ দাগের ৯৩ শতক জমির গাছ জোরপূর্বক কাটতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পিছু হটলেও যাওয়ার আগে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।
হামলায় গনেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ (ভোন্দা) বুকে এবং সাবানা মুরমু পিঠে তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তারা বর্তমানে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার আগেই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে পিউস মুরমুর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং বাড়ির নারীদের লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তীতে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি ও এসআই দীনেশ রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তাদের পরিবারের দাবি, সংঘর্ষে তাদের পক্ষের লোকজনও আহত হয়েছেন।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিজ ভূমিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা।













