রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রৌমারীতে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে ১১ দিন ধরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১১ দিন ধরে অনশনরত সরকারী কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর ভাগ্য নিয়ে খেলছে স্থানীয় প্রশাসন। এক কাপড়ে ১১ দিন ধরে ওই তরুণী অনশন করায় শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। স্থানীয় মাতুব্বর, জনপ্রতিনিধি, ইউএনও এবং ওসি’র দফায় দফায় মতবিরোধের জেরে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান ও রৌমারী থানার ওসি গোলাম মর্তুজা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলেও এখন পর্যন্ত অনশন ঘটনার কোনো সমাধান হয়নি। যতই দিন গড়াচ্ছে অনশনরত ওই শিক্ষার্থী খাদ্যাভাবে ততই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

জানা যায়, দক্ষিণ আলগারচর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীর চর লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামের ওসমান গণির ছেলে আব্দুল মান্নানের সাথে গত দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সুবাদে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অপরদিকে প্রেমিক আব্দুল মান্নান প্রেমিকার কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয়। পরে ওই প্রেমিকা বিয়ের চাপ দিলে প্রেমিক মান্নান কালক্ষেপন করতে থাকেন এবং প্রেমিকার সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রেমিকা কোন উপায় না পেয়ে গত ১১ দিন ধরে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের  বাড়িতে অনশন করছেন।

এ সময় প্রেমিকের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন শারিরিক ও মানসিক  নিযার্তন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তার আত্মচিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে ছেলের বাবা ওসমান আলী মা মর্জিনাসহ অনেকেই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদেরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। এনিয়ে মেয়ের চাচা মনির হোসেন বাদী হয়ে প্রেমিক আব্দুল মান্নানসহ ৭ জনকে আসামী করে রৌমারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও মাতুব্বরদের মতবিরোধের জেরে কোনোভাবেই এ ঘটনার সমাধান করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরমান আলী জানান,ছেলের বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক বসা হয়েছে। থানা পুলিশ ও বারবার এসেছে। কিন্তু কোনভাবেই সমাধান করা যাচ্ছে না।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মর্তুজা বলেন, ছেলের পক্ষের লোকজনকে দ্রুত সমাধান করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মাতুব্বরগণদের সমস্যাটি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। না হলে মেয়ের পরিবার আইনের আশ্রয় নিবে।

সম্পর্কিত