বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রৌমারীতে চর প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা

রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) মাধ্যমে সুফল পাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা। এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত শসা প্রদর্শনীর ‘মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা কৃষি অফিস। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চর প্রকল্পের অতিরিক্ত উপপরিচালক (এডিডি) মাসুদুর রহমান। বুধবার বিকালে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর ব্লকের যাদুরচর চাক্তাবাড়ি গ্রামে দিবসটি পালন করা হয়।
চর প্রকল্পের অতিরিক্ত উপপরিচালক (এডিডি) মাসুদুর রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দেশের ৩৫টি জেলার ১২১টি উপজেলার ৪হাজার ২৮৭টি ব্লকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে সরকারের ২০৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের ৩টি প্রধান উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চরাঞ্চলে যেসব ফসল হয় সেসব ফসলের শস্য নিবিরতা ৫ভাগ বৃদ্ধি করা, চরাঞ্চলের ফসলের শস্য উৎপাদন ৫ভাগ বৃদ্ধি করা। এ ছাড়াও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার উৎপাদন করে চরাঞ্চলের মানুষের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা।
আধুনিক কৃষি কলাকৌশলের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে এবং এতে কৃষকরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
যাদুরচর চাক্তাবাড়ি এলাকার কুষক ইসলামুদ্দিন বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এবার তিনি ভূট্টার আবাদ বাদ দিয়ে ২৫শতক জায়গায় শসার আবাদ করেছেন। এতে কম খরচে লাভ বেশিই পেয়েছেন।’
ওই এলাকার নারী কৃষি উদ্যোক্তা স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘আগে ধূ-ধূ বালু চরের জমিগুলো পতিত পড়ে থাকতো, কোনো ফসল পারতাম না। এখন চর প্রকল্পের মাধ্যমে ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ ও সেচ সুবিধা পাওয়ায় সেখানে ফসল ফলাতে পারছেন। এতে অভাব কেটে যাচ্ছে তাঁদের পরিবারের।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যাদুরচর ক্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিনু আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফছার আলী । অনুষ্ঠানে স্থানীয় ৬০জন কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা অংশ নেন।

সম্পর্কিত