মিজানুর রহমান মিজান, চিলমারী, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন-এর স্মরণে ব্রহ্মপুত্র নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক সাঁতার প্রতিযোগিতা। উলিপুর উপজেলার উজানির চর এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রতিযোগিতা শেষ হয় চিলমারী নৌ-বন্দর ঘাটে এসে।
ঢাকাস্থ বেঙ্গলস ডলফিনস ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের ৪ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাঁতারু। তাদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সাঁতারুরা হলেন-
চিলমারীর সন্তান, বাংলা চ্যানেল জয়ী ও ট্রাইঅ্যাথলেট মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইন্টার স্কুল জাতীয় স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং ২০২৩ সালে দেশের সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে ৫০ কিলোমিটার যমুনা নদী পাড়ি দেওয়া আব্দুল্লাহ আল মাহি (বগুড়া), বাংলা চ্যানেল বিজয়ী এবং যমুনা নদীতে একদিনে ৮০ কিলোমিটার সাঁতার দিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়া এসআইএম ফেরদৌস আলম (বগুড়া) এবং লালমনিরহাটের সহিদুল ইসলাম যিনি যমুনা নদীতে ৩৫ কিলোমিটার সাঁতার সম্পন্ন করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন-এর দ্বিতীয় সন্তান ও সাপ্তাহিক ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রকাশক এরশাদুল করিম রাজু, ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান পিন্টু, প্রেসক্লাব চিলমারীর সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিযোগিতা শেষে ট্রাইঅ্যাথলেট মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেশের বিভিন্ন চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। তবে ব্রহ্মপুত্রে এটি আমার জীবনের দ্বিতীয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম সাঁতার। আমরা চাই নদীতীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাঁতারে আগ্রহী হোক। এতে নতুন প্রজন্ম থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারু তৈরি হবে এবং পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও কমে আসবে।”
তিনি আরও জানান, এ আয়োজন নিয়মিতভাবে চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করে উৎসাহিত করা হবে।
ব্যতিক্রমী এ সাঁতার প্রতিযোগিতা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক ক্রীড়া ও পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।












