শাহিনুল ইসলাম লিটনঃকুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা গোড়াই পিয়ার গ্রামে মোয়া তৈরি করে ভাগ্য ফিরেছে সাইফুল ইসলামের।
সাইফুল ইসলাম (৪৫) মুড়ি ও গুড় দিয়ে সুস্বাদু মোয়া তৈরি করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। তার কারখানায় তৈরি করা মোয়ার পার্শ্ববর্তী ০৩ উপজেলায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাইফুলের মোয়া তৈরির কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ২০-২৫ নারী-পুরুষের। কর্মীদের বেতন মিটিয়েও সাইফুলের মাসে আয় হয় অর্ধলক্ষাধিক টাকা।
সরেজমিনে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বসে নারীরা হাত দিয়ে তৈরি করছেন গুড়ের মোয়া। কারখানার মালিক সাইফুল ইসলাম গুড়ে মেশানো মুড়ি দলা করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাটিতে বিছানো প্লাস্টিকের উপর। আর চারিদিকে নারীরা বসে তেল মাখানো হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রস্তুত করছেন গোলাকৃতির মোয়া।
জানা গেছে, সংসারের অভাব মেটাতে তিন বছর আগে নিজ বাড়িতে মোয়া বানানো শুরু করেন সাইফুল ইসলাম। খাঁটি গুড় ও ভালোমানের মুড়ি সংগ্রহ করে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করা মোয়া সুস্বাদু হওয়ায় আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে তার কারখানায় প্রতিদিন কাজ করছেন ২০ জনের বেশি নারীসহ প্রায় ২৫ জন। এতে সাইফুলের মাসে আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে এই মোয়ার কারখানা বড় পরিসরে করার ইচ্ছা সাইফুলের।
সাইফুল ইসলামের কারখানায় প্রতিদিন তৈরি হয় ৮ থেকে ১০ হাজার মোয়া। এসব মোয়া উলিপুর, রাজারহাট ও চিলমারী উপজেলায় প্রতি পিস ৩ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। আর দোকানিরা বিক্রি করছেন ৫ টাকা দরে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ৩ বছর পূর্বে আমি অনেকটাই হতাশ ছিলাম জীবন নিয়ে। পরে মোয়া তৈরি করার পর থেকে আর কোনো চিন্তা করতে হয়নি। এখন প্রতিদিন আয় হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। তবে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পেলে মোয়া কারখানা আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা আছে।
তিনি আরও জানান, ১০ বছর বাইসাইকেল ও রিকশার মেকানিকের কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু ৪ বছর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় সে পেশা। নিজের চিকিৎসা করাতে পড়তে হয় দেনায়। পরে এনজিও থেকে নেয়া স্বল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করেন মোয়ার ব্যবসা। বর্তমানে তার কারখানায় কাজ করছেন স্থানীয় গৃহিণী ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে ৩ ঘণ্টা কাজ করে পাচ্ছেন ২০০ টাকা করে। এ দিয়ে উপকৃত হচ্ছেন তারাও।
সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাপলা বেগম জানান, অসুস্থতার কারণে তার স্বামী সাইকেল মেকানিকের কাজ ছেড়ে দেয়ার খুবই দুঃখ দুর্দশায় দিন কাটছিল। কিন্তু বর্তমানে সে কষ্ট আর নেই। এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে সুখে আছেন বলে জানান তিনি।
সাইফুল ইসলামের পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, আগে অভাবের কারণে খুবই দুঃখ-দুর্দশায় সংসার চললেও এখন স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে তারা। কারখানার কাজে সহযোগিতা করেন পরিবারের সদস্যরাও।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মিন্টু মিয়া জানান, সাইফুলের মোয়ার কারখানায় গ্রামের অনেক নারী কাজ করছেন। এমনকি ছাত্র এবং বেকার যুবকরাও কাজ করছেন। সবাই লাভবান হচ্ছেন। তাকে সহায়তা করা গেলে সেখানে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।










