শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রৌমারীতে অনাবাদি জমিতে পুষ্টিবাগানে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

মাসুদ পারভেজ: রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বসতবাড়ির আঙিনায় ও অনাবাদি পতিত জমিতে পুষ্টিবাগান। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্ঠিবাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এসব বাগান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে কৃষকদের, দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণও। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য।

এবার চলতি খরিপ মৌসুমে ১৮৫ টি পরিবারকে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ ও ফলের চারা প্রদান করা হয়। কৃষকরা এসকল বীজ ও ফলের চারা রোপন করে পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ শাকসবজি ও ফল উৎপাদন করছে। ফলে একদিকে যেমন অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসছে। তেমন প্রতিটি পরিবার তাদের দৈনিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে। পাশাপাশি বাজারে এসব সবজি বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।

এতে প্রতি ইঞ্চি অব্যবহৃত ও অনাবাদি জমির ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করার ফলে তাঁরা নিজেরাই পরিচর্যা করতে পারছেন। পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ করতে বাইরে থেকে সবজি কিনতে হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ মৌসুমে ১৮৫ টি পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বিনা মূলে প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায় ক্রমে আরও বৃদ্ধি করা হবে। প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জনপদের বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুর-খালের পাড়, বাড়ির আশপাশ, স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত স্থানে সবজি-মসলা চাষ হবে। সেই সঙ্গে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য কৃষক পরিবারগুলাতে সবজি ও মসলার চাষাবাদ করা হবে। এতে বাড়ি বাড়ি গড়ে উঠবে পুষ্টিবাগান। বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষের পাশাপাশি হলুদ, মরিচ ও আদাসহ মসলা জাতীয় ফসলের চাষ হবে সেখানে। পাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে দেখতে আসেন মামুনুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার ডিএই, খামারবাড়ি কুড়িগ্রাম।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের মির্জাপাড়া গ্রামের সুমি আক্তার বলেন, ‘বসত বাড়ির পাশে যে স্বল্প পতিত জায়গা ছিল সেখানে পুষ্টি বাগান স্থাপন করে ৯ থেকে ১০ প্রকার শাক সবজির চাষ করছি। বাড়ির আঙিনায় হওয়ায় নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারি। এখন আমাদের বাজার থেকে শাক সবজি কিনতে হয় না।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাশেম জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা যেমন পূরণ হবে তেমনি কৃষক ধীরে ধীরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের পরিবর্তে জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব সারের ব্যবহার শিখবে। মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ও সংরক্ষিত থাকবে পরিবেশ। একই সঙ্গে মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধরী বলেন, ফসল চাষের আধুনিক কলাকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন প্রদর্শনীভুক্ত কৃষক-কৃষাণী। ফলে উৎপাদনে যুগোপযোগী প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁরা শস্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। এমনকি প্রকল্পভুক্ত ফসলের উৎপাদন, সংগ্রহ, গ্রেডিং, প্যাকিংসহ বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হয়ে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়বে। ফলে পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে।

সম্পর্কিত