শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রৌমারীতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ভোগান্তিতে ৩০টি গ্রামের মানুষ

শাহ মোঃ আব্দুল মোমেন, রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীতে কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর, যাদুরচর,বন্দবেড়,চরশৌলমারী ও শৌলমারী ইউনিয়নের  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওদাপাড়া, চান্দারচর, রতনপুর, বেহুলারচর, মোল্লারচর,খাটিয়ামারী, বোল্লাপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, ভুন্দুরচর, ইজলামারী,পূর্ব ইজলামারী, বারবান্দা, চুলিয়ারচর, ঝাউবাড়ী, বাইমমারী, ফলুয়ারচর, কুটিরচর, পালেরচর,পশ্চিমখনজনমারা,সোনাপুর,চরগেন্দার আলগা,বড়াইবাড়ী, খেতারচরসহ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে চর নতুনবন্দর স্থলবন্দরটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আমদানি ও রপ্তানী বন্ধ রয়েছে। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক। গত কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মানকারচর কালো নদী দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা জিঞ্জিরাম নদী দিয়ে নেমে আসে এ পানি। এতে অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জিঞ্জিরাম নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদেও কিনারা উপচে গিয়ে ঐসব এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩০টি গ্রাম। ফলে ঐ এলাকার মানুষ  জীবনের ঝঁুকি নিয়ে নৌকা বা ভেলা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পারাপার হচ্ছে।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের  টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আমার এলাকার নওদাপাড়া, চান্দারচর, খাটিয়ামারী, বোল্লাপাড়া, বামনেরচর ও চর নতুনবন্দরসহ বেশকয়েটি গ্রাম  প্লাবিত হয়েছে। ঐ এলাকা মানুষ বর্তমানে নৌকা ও কলাগাছের ভেলাদিয়ে জীবনের ঝুকিনিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে।

রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন আব্দুল রাজ্জাক বলেন, কয়েকদিনের অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আামার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আরো কয়েকদিন এ অবস্থা থাকলে বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ জানান,অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ২৭টি স্কুলের আঙ্গিনায় পানি উঠেছে,কোথাও পানি ভবনে উঠেছে,আমরা স্কুল বন্ধ ঘোষণা করিনি তবে পাঠদান বন্ধ রাখার ব্যাপারে বন্যা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে পাট,আউশ ধান,তিলের ক্ষেত, চিনা,কাউন ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শামসুল আলম জানান,রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৪টি স্কুল ও মাদ্রাসায় বন্যার উঠেছে,কয়েকটি স্কুল মাদ্রাসায় বন্যার পানি ভবনে উঠেছে ।এ পরিস্থিতিতে চলমান ষান্মাসিক মুল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবেনা ,আমরা ঢাকায় অবগত করেছি ১/২ দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু বলেন,আমি বন্যা কবলিত
অনেক এলাকা পরিদর্শন করেছি, বন্যার পরিস্থিতি ভালো না । অস্বাভাবিক ভাবে বন্যার পানিবৃদ্ধি হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় আট হাজার পরিবার পানিবন্ধি হয়েছে। তারা জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান জানান, ইতিমধ্যেই জরুরী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে,ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তা ঘাট,নদী ভাঙ্গনসহ ঝুকিপূর্ণ এলাকা,ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তথ্য নেওয়া হচ্ছে, ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দেওয়ার জন্য  পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী কাল
বন্যা কবলিত এলাকার মানুষকে জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য দেওয়ার জন্য  জিআর এর চাল ও পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট দেওয়া হবে।

সম্পর্কিত