মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

মোঃ নুরুল ইসলাম, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ

দ্বিতীয় ধাপে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৪ এ রাজবাড়ীর বলিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করে চলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গত বারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ এহসানুল হাকিম সাধন।

আজ বুধবার (৮ মে) সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলায় সরকার সমর্থক ছাড়া বিরোধী শিবিরের কোন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে নেই। বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচন বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত কোন শরীক দলও এই নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচন জয়ে উঠছে নিরুত্তাপ। তাছাড়া ব্যাক্তিত্ববান কোন রাজনৈতিক নেতা এই নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় “যোগ্য প্রার্থী” হিসাবে ভোটাররা মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসা আহসানুল হাকিম সাধনকেই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।
গ্রামাঞ্চল বা হাটে বাজারে প্রার্থী এহসানুল হাকিম সাধনকে গণসংযোগে দেখা যাচ্ছে। জমজমাট প্রচারণার পাশাপাশি প্রচন্ড তাপদাহে উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী আমেজ জমতে শুরু করেছে।
এদিকে প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত ও প্রতিক হাতে পেয়ে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী এহসানুল হাকিম সাধন গ্রাম অঞ্চলে পোস্টার ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে প্রচারনায় নেমেছেন।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ও নৌকা প্রতিক না থাকলেও মুলতঃ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতর একটি সূত্র জানান, দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে বিরত রয়েছে। এই নির্বাচনে জাসদ, বাসদ, কল্যান পার্টি, জেপি, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কাস পার্টিসহ আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলো কোন প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রতিযোগিতা ক্ষিন হয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে দলের মধ্যে এই ভোট নিয়ে ক্রমশ বিভেদ ও কোথাও কোথাও গ্রুপিং সৃষ্টি হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উপজেলার সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলিনুর জানান, ভোট আসলে আগে গ্রামে গ্রামে পাড়া মহল্লায় একটা আমেজ তৈরী হতো। কিন্তু এখন তা খুবই কম। এই উপজেলা নির্বাচনেও চোখে পড়ছে নির্বাচনী আমেজ।

ইসলামপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে ২ জনকেই মানুষ চেনে। প্রার্থীদের দুজনই রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নির্বাচনে এসেছেন বলেও তারা দাবী করেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ আলী মাস্টার নির্বাচন নিয়ে বলেন, সরকারের শরীকরা কেন নির্বাচনে প্রার্থী দেননি তা আমার জানা নেই। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে হয়তো তারা প্রার্থী দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে লড়াইটা প্রতিদ্বন্দিতামুলক হয়ে উঠতো। এহাসানুল হাকিম সাধনের মোটরসাইকেল প্রতীক জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাদশা আলমগীর বলেন, এই সরকারের আমলে উন্নয়নের ধারাকে দেখে অন্যান্যরা নির্বাচনে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা আশা করছি মোটরসাইকেল প্রতীকে এহাসানুল হাকিম সাধনকেই ভোটাররা ভোট দিবেন। তিনি আরো বলেন, সাধারণ ভোটাররা আমাদের নিকট তাদের ইচ্ছা শক্তিকে ব্যক্ত করে বলছেন, দীর্ঘদিন আমরা একটি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখেছি। তার আমলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেক স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আজও এমন এমন রাস্তা আছে যেখানে হাঁটতে গেলেও পা ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে। তাইতো নতুন প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আমরা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চাচ্ছি।

নবাবপুর ইউনিয়নের বেরুলী বাজারে গণসংযোগ কালে গণমাধ্যম কর্মী কে এসব কথা বলেন প্রার্থীর সাথে থাকা নেতাকর্মীরা। এ সময় সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিন ফেরদৌস, সাদ্দাম হোসেন, আলিনুর হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মর্জিনা বেগম, শাহিদ আক্তার, ইমরান হোসাইনসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত