রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশের অন্যতম পেঁয়াজ, রসুন উৎপাদনকারী উপজেলা বালিয়াকান্দিতে রসুন ক্ষেতে দোকানীর দেওয়া ভূল কীটনাশক প্রয়োগে ৫৫ শতাংশ জমির রসুন নষ্ট হওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে মাথায় হাত উঠেছে। ক্ষেতের রসুন নষ্ট হওয়ায় ভূল কীটনাশক দেওয়া দোকানীর বিরুদ্ধে প্রান্তিক কৃষক বিভিন্ন জনের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেন। এবং বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে ও কৃষকের মৌখিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কুরশী গ্রামের মৃত অছেল আলীর শেখের ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী শেখ সম্প্রতি
বালিয়াকান্দির আনন্দবাজারের সার, কীটনাশক বিক্রেতা মেসার্স আমিরুল ষ্টোরে এসে দোকানী মোঃ আতিয়ার রহমানের নিকট রসুনের ফলন উন্নত করতে পরামর্শ নিতে এলে দোকানী আতিয়ার রহমান কয়েকটি কীটনাশক তার নিকট বিক্রি করে। লেখাপড়া না জানা কৃষক আইয়ুব আলী তার পরামর্শে রসুন ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করে। উক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে রসুনের গাছ নষ্ট হয়ে আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে। রসুনের গাছ মারা যাওয়ায় কৃষক এলাকার লোকজনকে রসুন ক্ষেতে নিয়ে বওষয়টি দেখালে তারা প্রথমে বিষয়টি দোকানদারকে জানাতে বলে। দোকানদার ও দোকানদারের দোসররা কৃষককে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। অসহায় কৃষকের পক্ষে এলাকার এক সচেতন ব্যক্তি সংবাদকর্মীদের ফোনে বিষয়টি জানান। সংবাদকর্মী সরেজমিনে গেলে সেখানে কীটনাশক ব্যবসায়ী আতিয়ার গিয়ে বলেন এনিয়ে কাউকে জানানোর প্রয়োজন নেই। আমরা যে ঔষধ দিয়েছি তার সিসি ফুটেজ রয়েছে। তার দোকানে গিয়ে একটু ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি বলেন সিসি ফুটেজ মুছে গেছে। এরপর এক সংবাদকর্মীকে দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে নিষেধ করান। তিনি নাকি ঐ সংবাদকর্মীর নিজের লোক। কৃষক মোঃ আইয়ুব আলী শেখের ক্ষেতের রসুন গাছের পাতা হলুদ বর্ন হয়ে পঁচোন ধরেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মোঃ আইয়ুব আলী শেখ বলেন, আমি অশিক্ষিত মানুষ লেখাপড়া জানিনা। আমাদের এলাকার জনৈক ব্যক্তির নিকট থেকে ১ লাখ টাকা দিয়ে একটু জমি লিজ নিয়ে তারমধ্যে ৫৫ শতাংশে রসুনের চাষ করেছি। আমি দীর্ঘদিন ঐ দোকান থেকে নগদ-ও বাঁকিতে সার কীটনাশক ক্রয় করি। অতি বিশ্বাসে তার নিকট থেকে ক্ষেতে প্রয়োগের জন্য ঔষধ এনেছি। সে যে আমাকে ক্ষতি করবার জন্য এমন ঔষধ দিবে আমি বুঝতে পারিনি। আমার শেষ সম্বল ৫৫ শতাংশ জমির রসুন সে নষ্ট করেছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমার নিকট কৃষক আইয়ুব আলী এসেছিল। ১৩ ফেব্রয়ারী দুপুরে উভয় পক্ষকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। দোকানি বলেছে আমরা ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি রোববার পর্যন্ত দেখি কি হয়। আমি আজ ক্ষেতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলাম। তার দেখা রিপোর্ট দেখি, তিনি কি পেয়েছেন। যদি প্রকৃত পক্ষে কীটনাশক ছিটানোর জন্য ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই দোকানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।








