শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে বেশকিছু কৃষক করছে পেঁয়াজের কদম বীজের চাষ

মোঃ নুরুল ইসলাম , রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

প্রতিবছরই একটু একটু করে বাড়ছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের কদমের (বীজ) চাষ। দাম ভালো ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজের কদমের বীজ চাষে ঝুঁকছেন। যার ফলে এবছর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে ০৭ হেক্টর জমিতে।

তবে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কৃষি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন চাষ হওয়ায় কমেছে পেঁয়াজ চাষের জমি। যতটুকু কৃষি জমি রয়েছে তাতে এবার অনেক কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুকেছে। পেঁয়াজের কদম বীজের চাষও তুলনামূলক বেশি করছেন।

এ দিকে কৃষকরা বলছেন, এবছরে পেঁয়াজের দাম ভালো পেয়েছি। তবে পেঁয়াজের তুলোনায় পেঁয়াজের কদমে বীজ উৎপাদনে তুলোনামূলক খরচ কম। এতে কৃষকদের লাভের হার বেশি।

বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাঁকালিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক খোকন মন্ডল বলেন, আমাদের এলাকাতে ভালো পেঁয়াজ উৎপাদন হলে ফলন হয় প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ মণ। এতে পেঁয়াজের চারা রোপণ থেকে শুরু করে পেঁয়াজ তোলা পযন্ত প্রায় প্রতি বিঘায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। বেশি ভাগ সময়ে পেঁয়াজের দাম কম থাকে।
আর পেঁয়াজের কদমের বীজ প্রতি বিঘাতে সাড়ে তিন মণ হতে চার মণ পযন্ত উৎপাদন হয়। খরচ হয় প্রতি বিঘাতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মত লাগে। ১ হাজার টাকা মণ পেঁয়াজের কদম বীজ বিক্রি করলেও প্রায় তিনগুণ লাভ।

একই ধরণের কথা বলছে বালিয়াকান্দি কৃষি অফিস। তারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় বীজ চাষে ঝুঁকছেন চাষীরা। তুলনামূলকভাবে বীজের দাম বেশি থাকে এ অঞ্চলের বাজারে। চাষীরা জানান, গত বছর পেঁয়াজের বীজ বাজারে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোনিম্ন ২ হাজার ৮ শত টাকা কেজি দরে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলায় এবার ০৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কদম বীজ চাষ করা হয়েছে। এ থেকে ৫ মেট্রিক টনের বেশি বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া গত বছর পেঁয়াজের বীজের চাষ হয়েছিল সাড়ে ৪ হেক্টর জমিতে। এসব উৎপাদিত বীজ রাজবাড়ী জেলার কিছু চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

এবছর রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের (কদম) চাষ হয়েছে বহরপুর ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে আনুমানিক ২ হেক্টর জমিতে।

বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, এবছর আবহাওয়া ভালো। পিঁয়াজ ও কদম বীজ ভালো হয়েছে। রোগ বালাই কম । এখন ভয় একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নইলে আর কোন সমস্যা নাই।

তবে তারা বলেন, এই পেঁয়াজের কদম জমিতে থাকবে চার মাস। এছাড়া যখন জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছিল তখন তারা নিজেদের উৎপাদন কৃত পেঁয়াজ বীজ নিজে বীজ তলায় ফেলেছিলেন।

পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে। দাম ভালো, লাভ হয় ভালো। পেঁয়াজের কদমের বীজ চাষীদের কাছে ‘কালো সোনা’ হিসেবে এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে পরিচিত। অন্য সব ফসলের চেয়ে বেশি দাম হওয়ায় চাষীদের কাছে এটি সোনার মতো।

বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাঁকালিয়া গ্রামে খোকন মন্ডল চাষ করেছেন পেঁয়াজের বীজ। গতবছর ১২ শতাংশ জমিতে চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন তিনি। তাই এ বছর ২২ শতাংশ জমিতে করেছেন পেঁয়াজ বীজের চাষ।

তিনি বলেন, গত বছর বীজ বিক্রি করে লাভ হয়েছিল কয়েক হাজার টাকা। তাই এবছর নিজের জমিতে চাষ করেছি পেঁয়াজ বীজের।

এক বিঘা জমিতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। এই ফসলের পরিচর্যা বেশি লাগে। পরিচর্যার অভাব হলে ফলন কমে যাবে। সময় মত কীটনাশক দিতে হবে।

বহরপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে কৃষকের পাশে থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি। যখন ডাকে আমরা তাৎক্ষণিক কৃষকের কাছে গিয়ে হাজির হয়ে তাদের পরামর্শ প্রদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করে থাকি। আজ কৃষক খোকন মন্ডল ফোন দিয়েছে। আমি তার ডাকে সাড়া দিতেই মাঠে চলে এসেছি। এখানে ফুলের পরাগায়নের জন্য যে পরিমান মাছি থাকার কথা তা না থাকায় কৃষককে হাত পরাগায়নের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছি।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজের ফুলকে সবাই কদম বলে থাকে। এই কদম থেকে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদিত হয়। গত বছর বেশ ভালো দাম পেয়েছিলেন চাষীরা। তাই এই বছর কিছুটা বেড়েছে পেঁয়াজ বীজের চাষ।

পেঁয়াজের বীজ চাষে মৌমাছির পরাগায়ন নিয়ে নতুন চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সাদা কাপড়ের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটানোর কথা বলেছি। এতে বীজ ভালো মানের ও বেশি ফসল বা উৎপাদন হবে।

সম্পর্কিত