রুশাইদ আহমেদ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক যুগপূর্তি বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও যুগপূর্তি উপলক্ষে বেলা ১১টায় বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বেরোবির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। পরে আনন্দ র্যালি ও কেক কাটা শেষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক যুগপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি হেয়াত মামুদ ভবন প্রাঙ্গণে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিভাগের প্রভাষক বিউটি মণ্ডলের সঞ্চালনায় ‘শতবর্ষে আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেরোবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমদ। এ ছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেরোবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন বলেন, মনসুর আহমদ ছিলেন একজন নির্ভীক ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি কখনও নিজের ইচ্ছা বা স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সাংবাদিকতা করেননি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের দেশ ও সমাজের দর্পণ আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে উদ্যোগী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বেরোবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নানা কারণে সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার জায়গায় সাংবাদিকেরা অটল থাকতে পারছেন না। কিন্তু মনসুর আহমদ নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্যে চাকরি পর্যন্ত হারিয়েছেন। সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। তবুও দেশের উন্নয়ন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে জনগণকে সচেতন করার জন্য সাংবাদিকতা দরকার।
আলোচনা সভায় আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার ওপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গবেষক, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক ড. কাজল রশীদ শাহীন। এ সময় সাংবাদিক মনসুর আহমদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবন সম্পর্কে আলোচনা করেন তিনি। এ ছাড়াও বেরোবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহামুদুল হক ও আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি ইমরান মাহফুজ বক্তব্য রাখেন। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার আহমেদ।
পরে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, নৃত্য, গান, কৌতুকসহ বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন।










