মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চিলমারী’র আনোয়ারুল বিটিভির ৩ বিভাগের নিয়মিত শিল্পী

মিজানুর রহমান মিজান, স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আলাদা আলাদা বিভাগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার আনোয়ারুল ইসলাম।

আনোয়ারুল ইসলাম উপজেলার থানাহাট ইউনিউনের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে পল্লীগীতিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে আনোয়ারুল ইসলামের সুখ্যাতি রয়েছে তার নিজ জেলা কুড়িগ্রামের বাইরেও। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বেতার রংপুর ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে গান করে আসছেন।

আনোয়ারুল ইসলাম ২০০৪ সালে বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রে নজরুল সংগীতে প্রথম তালিকাভুক্ত হন। এরপর ২০১৪ সালে পল্লীগীতি ও আধুনিক গানে তালিকাভুক্তি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রে নজরুল সঙ্গীতে বিশেষ শ্রেণীর শিল্পী।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সংগীত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন এই প্রতিভাবান কন্ঠ শিল্পী। একই সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকা ভুক্ত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিটিভিতে নজরুল সংগীত এবং পল্লীগীতিতে তালিকাভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে আধুনিক গান, নজরুল সংগীত, পল্লীগীতি তিন শাখায় গান গাওয়ার সুযোগ হয় তার। আনোয়ারুল ইসলাম বেশ কিছু অ্যালবামেও গান গেয়েছেন। এরআগে তিনি বেশ কিছু অ্যালবামে গান গেয়েছেন। সব শেষ বিশিষ্ট উপন্যাসিক লেখক আবু রায়হানের আর কে রোড নামক অ্যালবামে গান করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম।

সংগীত জীবনে আনোয়ারুল ইসলাম প্রথম হাতেখড়ি নেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, গীতিকার,সুরকার ওস্তাদ নুরুল ইসলাম জাহিদের কাছে। এরপর পাশের জেলা গাইবান্ধায় মোঃ ইউসুফ আলী, রংপুরে ওস্তাদ তমাল কান্তি লাহিড়ী, রাজধানী ঢাকায় শহিদুজ্জামান স্বপন ও ঝুমা খন্দকারসহ আরো অনেকের কাছে দিক্ষা লাভ করেন। ২০০৪ সালে প্রচ্ছদ কর্তৃক আয়োজিত আন্ত উপজেলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জেলার সেরা শিল্পী নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়াও গান গাওয়ার জন্য বিভিন্ন পুরষ্কারে পুরষ্কৃত হয়েছেন এই গুনি শিল্পী।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী তালিকায় তিন বিভাগে চুরান্ত হওয়ায় চিলমারী শিল্পকলা একাডেমি, উলিপুর উদিচী শিল্পী গোষ্ঠী, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠন, সুশীল সমাজের ব্যক্তিগন অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চিলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল আলম লিটু বলেন, আনোয়ারুল ইসলাম অনেক দিন যাবত লোক সংগীত চর্চা করে আসছে। তার এই সাফল্য আমাদের চিলমারীবাসীর গর্ব।সহযোগিতা পেলে সে আরো এগিয়ে যেতে পারবে। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গানের মাধ্যমে আমি সমাজে আলো জ্বালাতে চাই। আর গানের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই সবার মাঝে। আমি চিলমারীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

 

 

 

সম্পর্কিত