মঙ্গলবার, ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ: নীরব বিস্ফোরণের প্রান্তে দাঁড়িয়ে

বিশেষ কলাম লেখক:আশিকুর রহমান:

বাংলাদেশ আজ এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নীরবতার ভিতরই লুকিয়ে আছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
মুখে কেউ কিছু বলে না, কিন্তু চোখে মুখে লুকানো আতঙ্ক প্রতিদিনই যেন বাড়ছে।
দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সব মিলিয়ে বর্তমান সময়টাকে বলা যায় এক কথায়:
অস্থিরতার অঘোষিত রাজধানী
অর্থনীতি: মানুষের ঘরে আগুন, কিন্তু দায়িত্বশীলরা নির্বিকার। বাজার এখন মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। যা কিনতে ৩০০ টাকা লাগত, আজ তা ৫০০ এমন উদাহরণ এখন প্রতিদিনের। মধ্যবিত্ত যারা দেশের মেরুদণ্ড তারা এখন সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। তাদের নেই কারও কাছে অভিযোগ করার জায়গা, নেই সহায়তা পাওয়ার রাস্তা। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে বিনিয়োগ করছে না।শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছে।
যুব সমাজ কাজ আর ভবিষ্যতের দুয়ারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত কবে দরজা খুলবে?

অর্থনীতি এখন শুধু দুর্বল নয় এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি আঘাত করছে।
রাজনীতি: বিশ্বাস হারালে রাষ্ট্র দুর্বল হয়

আজকের সবচেয়ে বড় সমস্যা আস্থাহীনতা। রাজনীতি মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, কিন্তু এখন রাজনীতি মানুষের ভয় বাড়াচ্ছে।
নীতির পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত, কিন্তু উন্নতি আসছে ধীরে। কেউ জানে না সামনে কী ঘটে এ অনিশ্চয়তা দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শত্রু। জনগণ এখন একটাই প্রশ্ন করছে নিরাপদ ও স্থির একটি দেশ আবার কবে ফিরে পাবো?
সমাজ: রাগ, হতাশা ও ভয়ের ত্রিমুখী চাপ
বিভিন্ন স্থানে অপরাধ বাড়ছে, সামাজিক নিরাপত্তা কমছে, মানুষের রাগ-হতাশা বাড়ছে। যেখানে সাধারণ মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান সেখানে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ভাঙার ঝুঁকি থাকে।
পরিবারে এখন খরচের হিসাব মিলাতে মিলাতে ক্লান্তি আসে, বাজারে গেলে হৃদস্পন্দন বাড়ে, আর ভবিষ্যৎ ভাবলে হৃদয়ে ভয় সঞ্চার হয়।
আন্তর্জাতিক চাপ: সময় এখন খুব জটিল।বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন আমাদের মাথার ওপর প্রভাব ফেলছে প্রতিদিন। বিদেশি বাজার সংকুচিত, রপ্তানি চাপের মুখে, শ্রমবাজার অনিশ্চিত। বাংলাদেশকে এখন প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে।
সমাধান: শক্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া পথ নেই
এখন সময় এসেছে গা বাঁচিয়ে চলার রাজনীতি বাদ দিয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার

বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা
টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কার
স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি
যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান
প্রশাসনে দুর্নীতি দমন

এগুলো ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ শুধু আটকে থাকবে না আরও ঝুঁকিতে পড়বে।
শেষ কথা: সংকট যত আসে, বাংলাদেশ তত লড়ে।

এদেশ যুদ্ধ করে জন্ম নিয়েছে।
ক্রাইসিসের সময় এই জাতিই সবচেয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়ায়। আজ আবার সেই সময় এসেছে। বাংলাদেশ আজ কঠিন পরিস্থিতিতে আছে কিন্তু এই পরিস্থিতিই আবার নতুন আশার জন্ম দিতে পারে,
যদি সঠিক নেতৃত্ব, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সঠিক নীতি সামনে আসে।
বাংলাদেশ হারেনি হারবেও না।
এখন শুধু প্রয়োজন সত্যিকার পরিবর্তনের সূচনা।

সম্পর্কিত