বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ১১৪তম উপনয়ন দিবস।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি), প্রতি বছরের ন্যায় ২৭ শে মাঘ উপনয়ন দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেবীগঞ্জ উপজেলার পেড়ালবাড়ী সমিতির ডাঙায় শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধাম ও উপজেলা ক্ষত্রিয় সমিতির উদ্যোগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দিনব্যাপী উপনয়ন যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে শতাধিক ক্ষত্রিয় সন্তান মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উপনয়ন গ্রহণ করে উপবীত (পৈতা) ধারণ করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ক্ষত্রিয় সমিতির নেতৃবৃন্দ ক্ষত্রিয় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার স্মৃতি ভাষ্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধাম (সমিতির ডাঙা)-এর সভাপতি উমাপতি রায়, ক্ষত্রিয় সমিতির সাবেক সভাপতি গোরাচাঁদ অধিকারী, সহ-সভাপতি নির্মল চন্দ্র বর্মন, পঞ্চগড় জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়, ঠাকুরগাঁও জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রশ্মি মোহন সিনহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বদেশ চন্দ্র রায়, ক্ষত্রিয় নেতা শ্যামল কুমার রায়, মধুসূদন বর্মা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৩১৯ বঙ্গাব্দের ২৭ মাঘ তারিখে “রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা”র নেতৃত্বে তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ ক্ষত্রিয় জনগোষ্ঠী পেড়ালবাড়ীতে সমবেত হয়ে ঐতিহাসিক উপনয়ন যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রাত্যত্ব মোচন করে উপবীত (পৈতা) গ্রহণ করেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর এ দিনটি উপনয়ন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়। দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে পালিত এই উপনয়ন দিবস আজ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ক্ষত্রিয় সমাজের ঐক্য, ঐতিহ্য ও সামাজিক সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিণত হয়েছে।






