মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত

আসাদুল্লাহ আল গালিব,নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়:

সারা দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা ‘প্রত্যয়’ স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার’সহ বেশকিছু দাবিদাওয়া নিয়ে পহেলা জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষক সমিতি ৭টি ভিন্ন কর্মসূচি চালু রেখে প্রথম দিনের কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।

সোমবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় সকল ৮ টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের নিরব অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মবিরতি পালন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শফিকুল ইসলাম,বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা সহ ফ্যাকাল্টির ডিন এবং বিভাগের সভাপতি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা বলেন, আমরা শুরুতেই সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাই নি। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চেয়েছিলাম যেনো আগেই এর সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু কোনো সুরাহা না পেয়ে আজকের এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছি আমরা। সারা বাংলাদেশের সকল পবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আজকের এই প্রথম দিনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আমরা আশাকরি সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি আমলে নিয়ে খুব দ্রুত এর সমাধান দিবেন।

আজকের সাত কর্মসূচির মধ্যে ছিলো: ১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে, ২) অনলাইন ক্লাস, ইভনিং ক্লাস, আই, আই, ই. আর-এর ক্লাসসহ সকল প্রকার ক্লাস বন্ধ থাকবে, ৩) সেমিস্টার ফাইনাল, অভ্যন্তরিন মূল্যায়ন, ভর্তি-পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ সকল প্রকার পরীক্ষা বর্জন করা হবে, ৪) ডিনের অফিস, প্রভোস্টের অফিস, বিভাগীয় সভাপতির অফিস, ডিরেক্টরের অফিস, সেমিনার লাইব্রেরী ও ল্যাবসমূহের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, ৫) একাডেমিক কমিটি ও প্লানিং কমিটির সভা, পরীক্ষা কমিটির সভা, সিলেকশন বোর্ডের সভাসহ শিক্ষক-সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার সভা বন্ধ থাকবে,৬) শিক্ষকগণ কোন সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপ আয়োজন অথবা অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন।

এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম বলেন, আমরা এই আন্দোলন নিজেদের জন্য করছি না। বরং আগামী প্রজন্মের জন্য করছি। দেশে এত দুর্নীতির কথা আমরা শুনি। সেসব কী শিক্ষকরা করেছে? তাহলে কেন তাদের সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। এই প্রত্যয় স্কিম বৈষম্যমূলক।

সম্পর্কিত