শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তারুণ্যের উদ্যোগে দেশের প্রথম চর জাদুঘর কুড়িগ্রামে

শাহিনুল ইসলাম লিটন  নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশের প্রথম চরভিত্তিক জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়েছে কুড়িগ্রামে — যা কুড়িগ্রামের চর অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের প্রথম প্রয়াস। আর এটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় কিছু তরুণ, নিজস্ব অর্থায়নে,একটি সাদামাটা টিনের ঘরে।

এই ব্যতিক্রমধর্মী জাদুঘরের নাম “চর যাদুঘর”। এটি অবস্থিত সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের গারুহাড়া স্কুল বাজার এলাকায়।

এই উদ্যোগের পেছনে আছেন তরুণ ক্লাইমেট অ্যাডভোকেট ও চর ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিশনার স্বপন কুমার সরকার। তিনি তাঁর গবেষণা ও অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে তুলেছেন JFCLR (Justice for Char and Local Research) — একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সুবিচারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, যার আওতায় “চর জাদুঘর” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই — তারুণ্যরা নিজের টিউশনির জমানো টাকা দিয়ে একটি টিনশেড ঘরে এটি গড়ে তুলেছেন। এতে রয়েছে চরবাসীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র,যেমন পুরাতন মাটির তৈরি আসবাবপত্র হাড়ি,কাদা,মটকা,ডাবু,পাঙ্খা,শিখা,ব্যবহৃত পোশাক,কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাসুন,কাঁচি,লাঙল,নদীর পানি ও চরের ফসলসহ সাক্ষ্যভিত্তিক অডিও গান ইত্যাদি উপকরণ।

প্রতিষ্ঠাতা স্বপন সরকার বলেন,
“চরের মানুষের জীবন এতটাই সংগ্রামমুখর, অথচ তাদের গল্প কোথাও নেই। আমরা চাই তাদের সেই জীবনের গল্প এবার সামনে আসুক এবং এই গল্পগুলো হারিয়ে না যাক—বিশ্ব ও নতুন প্রজন্মের সামনে তা তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”

সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রাজিব ইসলাম জানান,
“আমরা ভীষণ আনন্দিত কারণ এমন উদ্যেগের কারণে সবাই প্রশংসা করছে।

কমিউনিকেশন হেড নিম্মি ইসলাম বলেন,
“চর জাদুঘর দেখিয়ে দিয়েছে যে আমরা কুড়িগ্রামের তরুণেরাও চর নিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারি। আমরা আরও কিছু নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আছি যা সবাইকে চমকে দিবে।

জাদুঘরের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও সাইড অপারেশন হেড শাকিল ইসলাম বলেন,
“আমরা কখনো এরকম চরভিত্তিক যাদুঘরের নাম শুনিনি। অনেকের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি — এটি বাংলাদেশের প্রথম চর যাদুঘর”
আমরা এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের কথা গুলো তুলে নিয়ে আসবো,যা তরুন প্রজন্মকে চর নিয়ে ভাবাবে ও উদ্যমী করবে।

স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
চর যাদুঘরটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

সম্পর্কিত