মোঃমকবুলার রহমান,স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন থাকবে কি না, তা জনগণই নির্ধারণ করবে। বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা বারবার বলে আসছি—এটি জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়। বিএনপি একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং গণতান্ত্রিক নীতি ও চর্চায় আস্থাশীল। অতীতেও আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে কি থাকবে না, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে কি না—এটি নির্ধারণ করার অধিকার জনগণের। এটি বিএনপির সিদ্ধান্ত নয়। জনগণই ঠিক করবে কোন দল রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকবে এবং কোন দল টিকবে না।”
সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থার ঘোর বিরোধিতা:
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আনুপাতিক বা সংখ্যানুপাতিক ভোট পদ্ধতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থার আমরা পুরোপুরি বিরোধী। এ ধরনের পদ্ধতি এদেশের মানুষ কখনও অভ্যস্ত নয়। তাই এমন পদ্ধতির কথা চিন্তাও করা যায় না।”
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন নয়:
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একেবারেই রাজনৈতিকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি কৌশল। এটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থা আরও জটিল করে তুলবে। যত দ্রুত জাতীয় নির্বাচন হবে, তত দ্রুত দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে।”
জাতীয় নির্বাচনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা:
জাতীয় নির্বাচন কেন জরুরি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “জাতীয় নির্বাচন দ্রুত হওয়া জরুরি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। দ্বিতীয়ত, দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।”
সংবাদ সম্মেলনের পুরো বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বারবার জনগণের ইচ্ছাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলনের ওপর জোর দিয়েছেন।








