বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

“নারী দিবসে” একজন নারী হিসেবে বেরোবির শিক্ষার্থীদের চিন্তা-ভাবনা

ঐশী, বেরোবি প্রতিনিধি:নারী সমঅধিকার, সমসুযোগ আদায়ের লক্ষ্যে ৮ মার্চ “আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৪” পালন করা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। নারী দিবসে একজন নারী হিসেবে বেরোবির ভবিষ্যৎ নারী জাগরনের অগ্রদূত কিছু শিক্ষার্থী তাদের চিন্তা-ভাবনা ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ ডিজিটাল হলেও নারীকে নিয়ে সমাজের চিন্তাভাবনা আজও অনেকটা পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন তারা। নারীরা এখনো সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার।তারা নারীদেরকে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলেছেন।নারীদের সম অধিকারের কথা বলা হলেও এখনো তারা তা পাচ্ছে না। জীবন বাঁচার তাগিদে তারা এখনো সমাজ সংগ্রামের যোদ্ধা।সমাজে নারীদের অবস্থান আজও পিছিয়ে। তারা নারীদেরকে নিজের অধিকার আদায়ের রুখে দাঁড়াতে বলেছেন, শক্ত হতে বলেছেন।একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে সম্মান নিয়ে বাঁচার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বস্তি নিয়ে বাঁচার অধিকার থাকুক প্রতিটি নারীর এই কামনা করেছেন তারা।

 

লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহেদা তাইয়্যেবা বলেন,

সকলকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা।নারী দিবস একটি দিনে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন অনেকটায় ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সকল ক্ষেত্রে নারীদের স্বাবলম্বী করতে হয়তো আমরা এখনো সক্ষম হয়ে উঠি নি। তবে এবারে নারী দিবসে প্রতিপাদ্য বিষয় অত্যন্ত ইতিবাচক বলে আমি মনে করি।
“নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ” এর দ্বারা আমরা বোঝতে পারি সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য হলেও আমাদের অর্থনৈতিক ভাবে নারীরদের স্বাবলম্বি করতে হবে।প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক বিনিয়োগ। আমরা চাই আমাদের দেশ এবং সমাজ সমৃদ্ধ হোক।

 

জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে রুচিতা বনিক প্রিমা বলেন,

নারী এই শব্দটা দ্বারা আমরা আসলে অনেক কিছুই বুঝতে পারি। একজন নারী জন্মদান থেকে শুরু করে সন্তান কে লালন-পালন করে। একজন নারী ছোট থেকেই আসলে সংগ্রাম করে। তাদের পরিচয়ের জন্য, তাদের অধিকারের জন্য।

একজন নারী সমাজে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যদিও এখন যুগ পাল্টে গেছে ।
বলা হয়ে থাকে যে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের কথা। কিন্তু আসলেই কি নারীরা তা পেয়েছে সঠিকভাবে এখনো?

না পায়নি। এখনো নারীরা পিছিয়ে আছে তাদের জীবন যুদ্ধের সংগ্রামে। বাইরে বের হলেই একটা ভয় নিয়ে তারা বের হয়, এই সমাজের ভয় । এখনো তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত নয়, তারা নিরাপদ নয়, ঘরেও নয় , বাইরেও নয়।
তবুও এই নারীরা মায়ের রূপে , বোনের রূপে , স্ত্রীর রূপে এই সমাজে কাজ করে যাচ্ছে বেঁচে থাকার তাগিদে।নারীদের এই ত্যাগ গুলোকে আমরা কখনো আসলে কোনো কিছু দ্বারা তুলনা করতে পারবো না। এই নারী দিবসে সকল নারীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবেরা বিনতে মুহ্তারিজ(শাপলা) বলেন,

৮ই মার্চকে ঘিরে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। এই দিনটিকে ঘিরে সারাবিশ্বে নানা ধরনের বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই দিনটিতে আমরা দেখে থাকবো নারীদিবস উপলক্ষ্য নারী নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে টকশো, আলোচনা সভা, সেমিনার, রেলি করা হয়। নারী দিবসে নারীর সংগ্রাম, অধিকার, সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা ছাড়াও আর ইস্যু নিয়ে কথা বলে থাকেন।

কিন্তু যৌক্তিক ভিত্তির উপর দাড়িয়েও সামাজিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের একজন নারীর জন্য নিজের মতো করে জীবনটাকে সাজানো সহজ নয়। বাংলাদেশ ডিজিটালে পরিণত হলেও লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাবো এখনো নারীদেরকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যর শিকার হতে হয়।

সত্যি কি নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে ? সন্তান পালনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে ভেবেছেন? কখনো অভিভাবক নিজে শিখেছেন,জেনেছেন কীভাবে শিশুকে সুগঠিত ব্যক্তি হিসাবে গড়ে তোলা যায়?

একজন নারীকে আজও ছোটবেলা – বড় হওয়া অবধি নানা ভাবে বৈষম্যর শিকার হতে হয়। যদি পারিবারিক বৈষম্য কথা, ধরা যাক – খাবার খেতে বসলে এখনো দেখা যায় মাছের মাথাটা মেয়েকে না দিয়ে ছেলের জন্য রেখে দেওয়া হয়। বেশি পড়াশুনা করে কী হবে?
কিন্তু একজন মেয়েও ছেলের মতো করে চাকরি করে সংসার চালাতে সাহায্য করতে পারেন।এই যে বললাম চাকুরির কথা এখানেও মেয়েদের হয়রানি শিকার হতে হয়। নারীকে তার অফিসের বস কে খুশি করতে নিজেকে বিসর্জন দিতে হয়। আমাদের সমাজে ডিভোর্সি নারীকে বিষ মনে করা হয়। ডিভোর্সি হয়ে যেন তারা জীবনের সবথেকে ভুল করেছে? একজন নারীকে ধর্ষণ করলে নারী হয়ে যায় ধর্ষিতা, সমাজের-পরিবারের কলঙ্ক। ধর্ষক বুক ফুলিয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে, শাস্তি হয়লেও তেমন কোনো শাস্তি দেয়া হয় নাহ। তারা বার বার পার পেয়ে যায়। কেন এখনও ধর্ষকের সঠিক বিচার হয় নাহ?

নারীকে নিয়ে সমাজের চিন্তা ভাবনা এখনো খানিকটা সেকেলেই রয়েগেছে।
তারপরেও নারী এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। নারী মানেই হার না মানা। নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে।

 

জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লিমা আক্তার বলেন,

আমি নারী।
নারী মানে মমতা, নারী মানে মাতৃত্ব। অথচ চলার পথে আমার অনেক বাঁধা। আমি নাকি সবার কাছে বোঝা। নারীর নাকি নিজের কোনো ঘর নেই।

কেন এই অদ্ভুত নিয়ম? শুধু নারীই কেন অবহেলিত, উপেক্ষিত? সমাজ কি জানে এর উত্তর?

জানে না।সমাজ জানে শুধু অবহেলা করতে। আজ ৮ মার্চ “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” আসুন আজ নারী দিবস উপলক্ষে, এক নতুন এক অঙ্গিকার করি। দিন বদলেচ্ছে, সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর, নিজের জায়গা শক্ত করার, নিজের অধিকার আদায় করার।শক্ত হতে হবে এবং বলতে হবে আমি নারী, আমিও পারি।

 

গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইসফাকুন নিসা বলেন,

দেবব্রত সিংহ এর লেখা ‘তেজ’ কবিতার একটি অংশে এক মহিলা বলেছিল, “বিটি না মাটি, পরের ঘরের হিসেল ঠেইলবেক তার আবার লেখাপড়া”
এই কথাটি বর্তমান সমাজের মেয়েরা অনেক খানিই উতড়িয়ে এসেছে। লেখাপড়া শিখে চাকুরী করছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অচল সংসারের হাল ধরছে কেউবা। বর্তমানে শতকরা ৫০% শিক্ষার্থীই নারী (প্রায়)।

সমাজ বলছে, ‘তোমাদের সমঅধিকার দিয়েছি ‘
সমাজের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়, তবে কেন প্রায়ই শুনি নারীর সম্মানহানির কথা? কেন এখানে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ধর্ষণ ইভটিজিং হচ্ছে আজও? কেন একটি মেয়ে আজও একা চলতে ভয় পায় সম্মানহানির ভয়ে?

নারী দিবসে ‘সম অধিকার’ কথাটির চেয়ে ‘সম্মান’ কথাটি এগিয়ে থাকুক। মানুষ হিসেবে, স্বাধীন মানুষ হিসেবে সম্মান নিয়ে, স্বস্তি নিয়ে বাঁচার অধিকার থাকুক প্রতিটি নারীর।

সম্পর্কিত