রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বিরামপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

 

শফিকুল ইসলাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দিনাজপুরের বিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞানমেলা–২০২৬। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ মেলার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা ও প্রযুক্তির চর্চায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরামপুর সরকারি কলেজ, বিরামপুর মহিলা কলেজ, বিরামপুর বিএম কলেজ, মুকুন্দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদ্রাসা এবং বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়।
প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার করে বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় গ্রুপের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও প্রতিযোগিতামূলক।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ দিক ছিল স্থানীয় কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় আধুনিক কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমীনা আক্তার নীলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিজ্ঞান মেলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত হয়ে বিরামপুর এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন।

সম্পর্কিত