বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঢাকাগামী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও মেয়ের নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ-সোনাহার সড়কের নতুনবন্দর নামক এলাকার ধরধরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মমতা পারভীন ও তাঁর মেয়ে মুনতাহা(৫) দেবীগঞ্জ পৌর সদরের কলেজপাড়া(আব্দুলপুর) এলাকার আজাদ হোসেনের স্ত্রী ও মেয়ে। এছাড়াও মমতা পারভীন অপর মেয়ে মুবাশ্বিরা(৫) ও ভাগিনা মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। মুবাশ্বিরা ও মুনতাহা জমজ বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী নাদের গ্রুপের নীলফামারী ট্রাভেলস নামের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে থাকার কারনে সোনাহার থেকে দেবীগঞ্জের দিকে আসা মোটরসাইকেলটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয় এবং স্থানীয়রা মোটরসাইকেল চালক মনিরুল ও মুবাশ্বিরাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মুবাশ্বিরা আশঙ্কামুক্ত থাকলেও মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, মমতা বেগম দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি সোনাহার গজপুরী এলাকা থেকে ভাগনে মনিরুল ইসলামের বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত মমতা পারভীন খারিজা গুয়াগ্রাম হাজরাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও সোনাহার বাজার এলাকায় স্থানীয়রা বাসটি আটক করেন এবং চালককে আটকে রাখেন। বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ব ১৩-২৪৩৩। আটক বাসচালক নীলফামারী জেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহাবুল ইসলাম। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘাতক বাস ও চালককে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের পাশে বালু ডাম্পিং ও নিয়মিত বালু পরিবহনের কারণে রাস্তায় বালু জমে থাকার কারনে রাস্তাটি দূর্ঘটনাপ্রবন হয়ে উঠেছে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।








