বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নির্বাচনী পূর্ববর্তী ও পরবর্তী নিরাপত্তা বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার(১ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৫ টায় পৌর শহরের এক নং ওয়ার্ডের সমিতির ডাংগা এলাকার শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধামের পঞ্চানন ভবনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি বাবু উমাপতি রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা প্রদান করেন দেবীগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর শেখ আবু সালেহ রহমতুল্লাহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ শামসুল হকসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টিম এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নবীন চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়, দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু পরেশ চন্দ্র রায়, পামুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু মনিভূষন রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিপ্রধর রায় সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সনাতনী নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ক্যাম্প কমান্ডার মেজর শেখ আবু সালেহ রহমতুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন,
“আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেবীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ভোটার, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো প্রকার ভয়ভীতি, হুমকি বা সহিংসতার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সবাই যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখব।” তিনি আরও বলেন, “যেকোনো সমস্যা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ সরাসরি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
উমাপতি রায় বলেন, ভোটা প্রদান করা আমাদের নাগরিক অধিকার। আমরা সকলে অবশ্যই নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাব এবং আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবো। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান।
হরিশ চন্দ্র রায় তার বক্তব্যে বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সনাতন সম্প্রদায়ের শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরবর্তী যেকোনো সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।”







