শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

অনলাইন জুয়ার কল্যাণে ‘কোটিপতি’ গ্রাম পুলিশ

রাজবাড়ীতে ৭ বছরের চাকরিতেই “ইহজাগতিক ভিলা”র মালিক শহিদুল

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ॥

অনলাইন জুয়ার ছোবলে একদিকে নিঃস্ব হচ্ছে তরুণ সমাজ, অন্যদিকে কেউ কেউ রাতারাতি গড়ে তুলছে কোটি টাকার সাম্রাজ্য। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নে। চায়ের দোকানদার থেকে গ্রাম পুলিশ, আর গ্রাম পুলিশ থেকে কোটিপতি— এমন আশ্চর্য উত্থানের গল্প এখন পুরো এলাকায় চর্চার বিষয়।

গ্রাম পুলিশ মোঃ শহিদুল শেখ (২৫), পিতা মৃত শাহজাহান শেখ, গ্রাম সাদিপুর। মাত্র সাত বছরের চাকরিতেই গড়ে তুলেছেন আলিশান “ইহজাগতিক ভিলা” নামের দোতলা বাড়ি, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি, ইন্টারনেট ও ডিসলাইন ব্যবসা, গরুর খামার এবং হাট ইজারাসহ কোটি টাকার সম্পত্তি।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদুল শেখের শিক্ষাজীবন তেমন দূর এগোয়নি। বাবার সঙ্গে কুঠিরহাট বাজারে খাস জমিতে চায়ের দোকানই ছিল জীবিকার একমাত্র ভরসা। পরে ২০১৮ সালে শহীদওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ পদে যোগ দেন। করোনা মহামারির সময় বিকাশ ব্যবসার আড়ালে অনলাইন ‘ওয়ান এক্স বেট’ জুয়ার প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে জুয়ার মাঠ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নেন বিপুল অর্থ।

এরপর একে একে তিনি রাজবাড়ী জেলখানার পাশে কেমিক্যাল কারখানা, ১৬ লাখ টাকার ইন্টারনেট ব্যবসা, ডিসলাইন নেটওয়ার্ক, ৫০ গরুর খামার, ১৪ লাখ টাকার গরুর হাট ইজারা, এবং ৩০ লাখ টাকায় কৃষিজমি ক্রয় করেন। বাবার পুরনো চায়ের দোকান এখন তিনি ভাড়া দিয়েছেন অন্যকে। পাশাপাশি ভাইকে দিয়েছেন ডেকোরেটরের দোকান।

স্থানীয়রা বলছেন, একজন নিম্নআয়ের গ্রাম পুলিশের এমন হঠাৎ উত্থান রহস্যজনক। কুঠিরহাট বাজারের একাধিক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

> “চায়ের দোকান থেকে এমন সম্পদ তৈরি করা অসম্ভব। বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত করা দরকার।”

 

শহীদওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ভুঁইয়া জানান,

> “গ্রাম পুলিশ শহিদুল শেখ দীর্ঘদিন পরিষদে অনুপস্থিত। তাকে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

 

অভিযুক্ত শহিদুল শেখ অবশ্য দাবি করেন, তিনি কোনো জুয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না। নিজের ভাষায়,

> “চায়ের দোকানের সময় বিকাশ ব্যবসা করতাম। করোনা সময়ে অনলাইনে নিজেই জুয়া খেলতাম। পরে ইন্টারনেট, কেমিক্যাল ও হাট ব্যবসায় বিনিয়োগ করি। বাড়ি করেছি ৫০ লক্ষ টাকায়, তবে এখন অনেক দেনা আছে।”

 

তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে আয়কর ফাইল খুলেছেন এবং বর্তমানে আয় দেখিয়ে রিটার্ন দিচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শোকজ নোটিশের জবাবও দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক বলেন,

> “ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্পর্কিত