শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

দ্রুততর সময়ে বাদীকে সেবা দিতে গিয়ে বিপাকে ডিবি পুলিশ

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়া সদর থানার একটি প্রতারণা অভিযোগে আসামি গ্রেফতারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে গিয়ে আইনের ব্যত্যয় ঘটায় বিপাকে পড়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি ও সংশ্লিষ্ট টিম। এতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে বগুড়ার মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রতারকদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন (নম্বর-২৪১০)। প্রতারক চক্র মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের পরিচয়ে রফিকুলের জামাতাকে ফোন দিয়ে তার নাতির ‘মেধাবৃত্তির টাকা’ দেয়ার কথা বলে প্রাইম ব্যাংকের হিসাব নম্বর নেয়। পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পরিদর্শক মো. রাকিব হোসেন তদন্তে নামেন। তদন্তে প্রতারক রাজু মিয়া (২৩), পিতা জলিল মিয়া, গ্রাম জলপাক্ষা, ভাঙ্গা, ফরিদপুরকে শনাক্ত করেন।
তাকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ডিবি পুলিশ ভিন্ন একটি মামলার (সদর থানার মামলা নং-৮৭, তারিখ ৩০/০৪/২৫, ধারা ৩৯৫/৩৯৭) অধীনে র‌্যাব-১২ এর সহায়তায় রাজুকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে আটক করে বগুড়ায় আনে।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে রাজু প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করলে এবং আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হলে নতুন করে বগুড়া সদর থানায় প্রতারণার মামলা (নং-৪৩, তাং ১১/১০/২৫, ধারা ৪০৬/৪২০) দায়ের করা হয়।
এই মামলায় রাজুকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং উদ্ধার টাকাসহ ব্যাংক হিসাব আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ করা হয়।
তবে এক মামলায় আটক করে অন্য মামলায় চালান দেওয়ার ঘটনায় আইনের বিধান লঙ্ঘন হওয়ায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ওসি ডিবি ও সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্পর্কিত