প্রতিনিধি: মোহাইমেনুর রহমান-সানা, জলঢাকা
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। চিকিৎসার জন্য যেসব ন্যূনতম সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই এখানে অনুপস্থিত। ফলে অসংখ্য রোগী হাসপাতালে এসে চিকিৎসার পরিবর্তে আরও বেশি কষ্টে পড়ছেন।
গত ১৫ জুন ২০২৫, রবিবার জলঢাকা উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। প্রতিনিধি দলটি হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনা ও সংকট দেখার পর গণমাধ্যমের কাছে তা প্রকাশ করে।
বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটর অকেজো
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, বিদ্যুৎ চলে গেলে জ্বলে না কোনো লাইট, চলে না ফ্যান। রোগী ও স্বজনরা তখন হাতপাখা বা মোবাইলের টর্চই একমাত্র ভরসা করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটরটি সংস্কার না হওয়ায় সেটি অকেজো হয়ে আছে। আইপিএস মেরামতেও নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ, অর্থের অভাবে সার্ভিস বন্ধ।
নোংরা টয়লেট, ময়লার ভাগাড়ে পরিণত
হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থা আরও ভয়াবহ। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় যেন ময়লা ফেলার স্তুপ। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, হাসপাতালে কনসালটেন্ট ও ডাক্তার পদের সংখ্যা ৩৩ হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর জন্য অনুমোদিত পদ সংখ্যা ২২ হলেও সেখানে রয়েছেন মাত্র ৯ জন। ফলে একদিকে রোগীরা মারাত্মক হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সীমিত সংখ্যক ডাক্তাররা পড়ছেন তীব্র চাপের মুখে।
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে সাময়িক সমাধান
অবস্থার ভয়াবহতা দেখে এনপিপি’র প্রতিনিধি দল জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন। ইউএনও মহোদয় জেনারেটর চালানোর জন্য ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দেন এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে যেন ফ্যানগুলো সচল থাকে তার জন্য ব্যবস্থা নেন। তবে এসবই সাময়িক সমাধান মাত্র।
রোগীর সংখ্যা অনেক, শয্যা সীমিত
প্রসঙ্গত, জলঢাকা উপজেলা হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ রোগী সেবা নিতে আসেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
স্থানীয়দের দাবি
সার্বিক বিবেচনায়, জলঢাকা উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা না হলে স্বাস্থ্যসেবা আরও ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছাবে বলে তাদের আশঙ্কা।









