রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পঞ্চগড়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে চেয়ারম্যানের প্রেমের গুঞ্জন

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত আব্দুল হালিম কাজী দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জামায়াতে ইসলামী দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আমীর। এছাড়াও তিনি খারিজা গুয়াগ্রাম হাজরাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট, ফুলবাড়ি বাজার জামে মসজিদের ইমাম এবং কাজী (বিবাহ রেজিস্ট্রার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার মো: রফিক হাসান ও পাশ্ববর্তী ষোলঘর এলাকার মোছা. মিমি আক্তার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চাকরির সুবাদে রফিক ঢাকায় থাকলেও স্ত্রী মিমি থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে।

মিমি গত বছর একই মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় মাদরাসা সুপার হালিম কাজীর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। তারপর থেকেই মোবাইলে মেসেজ আদান প্রদানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে হালিম চেয়ারম্যান তাকে প্রেম নিবেদনসহ বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেন এবং প্রলোভনে ফেলেন। এই বিষয়টি তার স্বামী জানতে পেরে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ফুলবাড়ি জামে মসজিদের ইমামের পদ থেকে হালিমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী মিমি বলেন, “মাদরাসায় পড়াকালীন সময় থেকেই চেয়ারম্যান ক্লাস নেওয়ার সময় আমার প্রতি কুনজর দেন। এমনকি পড়া দেখানোর কথা বলে একসময় বাড়িতেও আসেন চেয়ারম্যান। এরপর থেকে চেয়ারম্যান আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে বিভিন্ন সময় কুরুচিপূর্ণ মেসেজ দেন। বিভিন্ন সময়ে আমি মেসেজ দেয়া নিষেধ করলেও তিনি মেসেজ দিতেই থাকেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি আমার স্বামী জানতে পারে এবং বর্তমানে আমার স্বামী আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। চেয়ারম্যান এর কারনেই আমার সংসার আজ ভাঙ্গনের পথে। আমি স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চাই এবং চেয়ারম্যান হালিমের উপযুক্ত শাস্তি চাই”।

ভুক্তভোগীর স্বামী রফিক হাসান বলেন, আমি আমার স্ত্রী ও তার পরিবারকে এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলে সাবধান করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও কোন পরিবর্তন আসেনি। গত সপ্তাহে হুট করে ঢাকা থেকে শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রীর ফোনটি হাতে নিলে চেয়ারম্যান এর দেয়া শতাধিক মেসেজ দেখতে পাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই একটি পক্ষ এই নাটক সাজিয়েছে।

এবিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলাম সেক্রেটারি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “আমরাও এই বিষয়টি শুনেছি এবং দলীয় ভাবে তদন্তের জন্য আমাদের একটা টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত মেয়ের সাথে বা তার পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে যে মোবাইল নাম্বার থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে, সে নাম্বারটি চেয়ারম্যান হালিমের নয়”।

 

সম্পর্কিত