মোঃ মকবুলার রহমান,স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারীঃ
বছরের শেষ দিন, চৈত্রের শেষ সূর্য—পুরাতনকে বিদায় আর নতুনকে বরণের এক অনন্য ক্ষণ। চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে প্রতি বছর বাংলার গ্রাম-গঞ্জ, নগর-শহরে ছড়িয়ে পড়ে নানা আয়োজন ও উৎসবের রঙিন ছোঁয়া। আজ, ১৩ এপ্রিল রবিবার, চৈত্র মাসের শেষ দিন—বাংলা বছরের অন্তিম প্রহর। আগামীকাল, ১৪ এপ্রিল সোমবার, নতুন বছর ১৪৩২-এর সূচনা পহেলা বৈশাখ।
আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বহন করে চৈত্রসংক্রান্তি হয়ে উঠেছে এক অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। বিশ্বাস করা হয়, নববর্ষের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মূল শিকড় এই চৈত্রসংক্রান্তিতেই নিহিত। তাই এই দিনটি বাঙালির আরেক বৃহৎ লোকজ উৎসব হিসেবে বিবেচিত।
এই দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস পালন করেন। আয়োজিত হয় শিবের গাজন ও ধর্মের গাজন নামে পালাগান। মূলত কৃষিজীবী সমাজের এই উৎসব গ্রীষ্মের তীব্রতা থেকে মুক্তি ও বৃষ্টির প্রার্থনায় উদযাপিত হয়ে থাকে। অনেক স্থানে অনুষ্ঠিত হয় চড়ক পূজা—যেখানে এক অদ্ভুত আবেশে মেতে ওঠে মানুষ।
চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলা, হালখাতার উৎসব, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য ও শোভাযাত্রা। এসব আয়োজন বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে করে তোলে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক।
চড়ককে ধরা হয় চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব। এর অংশ হিসেবে গ্রামের শিবতলা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা গিয়ে পৌঁছায় অন্য গ্রামের শিবতলায়। সেজে ওঠেন শিব ও গৌরী, নাচেন ভক্তরা—কেউ নন্দি, কেউ ভূত-প্রেত, আবার কেউ দৈত্য-দানবের সাজে।
এভাবেই পুরোনো বছরের ক্লেশ ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে, আগামীকাল পহেলা বৈশাখে সমগ্র বাঙালি জাতি আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেবে। নববর্ষের এই সর্বজনীন উৎসবে গেয়ে উঠবে জীবনের জয়গান—”এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।”








