মোঃমকবুলার রহমান,স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
নীলফামারীর জলঢাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই যেন শুরু হয় মশার রাজত্ব। এতে করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের বাসিন্দারা থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষও মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। মশার কামড়ে রাতে ঘুমানো দায়, এমনকি দিনের বেলাতেও স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, মশা দমনে পৌরসভা কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। যে স্প্রে ছিটানো হয়, তা কোনো কাজেই আসছে না। বরং তা শুধুমাত্র ধোঁয়া সৃষ্টি করছে।
মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক:
২০১৯ সালে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। এবারও মশার এমন উপদ্রব দেখে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউলেক্স মশার কারণে চিকুনগুনিয়া ও ফাইলেরিয়াসিসের মতো রোগের ঝুঁকি রয়েছে।
জনসাধারণের দুর্ভোগ:
জলঢাকা পৌর এলাকার বাসিন্দা শিল্পী বলেন,
“সন্ধ্যা হলেই ঘরে বসা দায় হয়ে যায়। পড়াশোনা তো দূরের কথা, বাচ্চাদের ঘুমাতেও কষ্ট হয়। যে ওষুধ দেয়, তাতে মশা মরে না, শুধু ধোঁয়া হয়। আমাদের জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়ার শিক্ষার্থী রুম্মান সিদ্দিকী বলেন,
“আমরা কয়েল, স্প্রে সবকিছু ব্যবহার করেও মশার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছি না। সন্ধ্যার পর যেন পুরো এলাকা মশার দখলে চলে যায়।”
শহরের মুন্নু পার্কে ঘুরতে আসা কয়েকজন বলেন,
“মশার কারণে সন্ধ্যার আগেই পার্ক ছেড়ে চলে যেতে হয়। এতে বিনোদনের জায়গাগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।”
প্রশাসনের আশ্বাস বনাম বাস্তবতা:
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান,
“আমরা নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ওষুধের মানও যাচাই করা হয়। তবে অনেক সময় তাৎক্ষণিক ফল না পাওয়ায় অনেকে ভুল বোঝেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন,
“আমরা ড্রেন পরিষ্কারসহ মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে কাজ করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত মশার উপদ্রব কমে আসবে।”
কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন:
তবে স্থানীয়রা মনে করেন, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে একই ওষুধ ব্যবহারের ফলে মশা হয়তো প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে। তাই নতুন ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহার করা জরুরি। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে জলঢাকায় মশার দৌরাত্ম্য কমবে না বলেই ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
শুধু স্প্রে ছিটিয়ে দায়িত্ব শেষ করলেই হবে না; বরং মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস, কার্যকর ওষুধ ব্যবহার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা না হলে জলঢাকাবাসীর দুঃস্বপ্ন শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।







