শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

গোয়ালন্দে প্রবাসীর জমি থেকে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের অম্বরপুর গ্রামে এক প্রবাসীর জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মোঃ সুজন শেখ এ বিষয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অবশেষে তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে অংশ নিয়ে পুনরায় অভিযোগ জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী মোঃ সুজন শেখ ছোটভাকলা ইউনিয়নের অম্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় প্রবাসী।

মোঃ সুজন শেখের বাবা মোঃ মোতালেব শেখ ওই অভিযোগে উল্লেখ করেন, ছোটভাকলা মৌজার বিএস ৫২৮, ৪২৫ ও ২১১ নম্বর খতিয়ানে থাকা মোট ১০৯ শতাংশ জমি তারা ২০১৩ ও ২০২০ সালে কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। তবে একই গ্রামের মোঃ ইউনুছ সরদার ও মোঃ কালাম মোল্লা তাদের ওই জমির মধ্যে ৩৮ শতাংশ দখল করে পুকুর খনন করছেন। বাধা দিতে গেলে তারা হুমকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজবাড়ী থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে গোয়ালন্দ যাওয়ার পথে অম্বরপুর এলাকায় বাঁধের বাম পাশে বড় আকৃতির একটি দীঘি খনন করা হচ্ছে। সেখানে একটি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন রাখা থাকলেও কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি দেখা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, রাতে মাটি কেটে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। দীঘিটির চারপাশে আবাদি জমিতে বোরো ধানের চাষ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ জমির মালিক মোঃ সুজন। জমিতে তার বাবা মোঃ মোতালেব শেখ চাষাবাদ করতো। কিন্তু সুজন প্রবাসী হওয়ায় গত ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মোঃ ইউনুস সরদার ও কালাম মোল্লা স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতি রাতেই মাটি কেটে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে বাঁধা দিতে গেলেই সুজনের বাবার প্রাণনাশের হুমকি দেন তারা। এরপর সুজন প্রবাস থেকে ফিরে ওই জমি থেকে মাটি কাটতে বাঁধা দিলে তাকেও তারা প্রাণনাশের হুমকি, ধামকি দেয় তারা। পরবর্তীতে আমাদের পরামর্শে সুজন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু মাস পেড়িয়ে গেলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে প্রশাসন এখন পর্যন্তও নিরব ভূমিকা পালন করছেন। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সুজন জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে অংশ নিয়ে পুনরায় অভিযোগ দেন। এ অভিযোগর বিষয়েও এখনো কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ বিষয়ে প্রশাসন যদি দ্রুত কোন ভূমিকা না নেয়, তাহলে যে কোন সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভুক্তভোগী সুজন শেখ বলেন, আমি দুবাইতে ছিলাম। একদিন বাবা ফোন করে জানান, আমাদের জমি দখল করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। দেশে ফিরে দেখি, আমাদের জমিতে চালা বাঁধা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা উল্টো আমাকে মারতে আসে। দিনভর কোনো মাটি কাটা হয় না, কিন্তু রাত হলেই এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। প্রথমে আমি সহকারী কমিশনার (ভুমি) (এসিল্যান্ড) স্যারের কাছে অভিযোগ করি। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যারের গণশুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযোগ জানাই। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ২ মার্চ পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রশাসন কোন কার্যকর কোন ভূমিকা নেয়নি। এ সুযোগে মোঃ ইউনুস সরদার ও কালাম মোল্লা স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার যোগসাজশে প্রতি রাতেই মাটি কেটে বিক্রি করছে। আমি একজন প্রবাসী হিসাবে সরকারের কাছে এ অন্যায়ের প্রতিকার চাই।

অভিযুক্ত মোঃ ইউনুছ সরদার বলেন, যেখানে পুকুর কাটা হচ্ছে, সেখানে আমার কিছু জমি আছে। তবে মূল মালিক কালাম মোল্লা। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমি এলাকায় থাকি না।

কালাম মোল্লা বলেন, সুজন মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমাদের নিজস্ব জমিতেই আমরা পুকুর কাটছি। আগামী সপ্তাহে জমি মাপা হবে, প্রয়োজনে আপনিও আসতে পারেন। পুকুর খননের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গত বছর ইউএনও অফিস থেকে পুকুর খননের অনুমতি নিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, সুজন শেখ নামে একজন অভিযোগ করেছেন যে, তার জমি দখল করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। আমরা দ্রুতই নোটিশ পাঠিয়ে দুই পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করবো।

সম্পর্কিত