মোঃমকবুলার রহমান,স্টাফ রিপোর্টার:
মানুষ মাত্রই ভুল করে, কারণ আমরা অসম্পূর্ণ। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমত এতটাই বিশাল যে, যদি কেউ সত্যিকারের অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে, তিনি সব পাপ ক্ষমা করে দেন। তাই কারও অতীতের ভুল ধরে তাকে ছোট করা, অপমান করা বা খোটা দেওয়া উচিত নয়। কারণ হতে পারে, সে ব্যক্তি আন্তরিক তওবা করে আল্লাহর কাছে এতটাই প্রিয় হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাকে তোমার থেকেও উত্তম বানিয়ে দিয়েছেন!
তওবার মর্যাদা ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন-
“হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছো (পাপ করে), তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
(সূরা আজ-জুমার: ৫৩)
এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তওবা করলে আল্লাহ অতীতের সমস্ত পাপ মুছে দেন, এমনকি তা পাহাড়সমান হলেও!
অতীত নিয়ে বিদ্রূপের পরিণাম:
কাউকে তার অতীতের ভুল নিয়ে উপহাস করা বা তাকে খোটা দেওয়া খুবই বিপজ্জনক। হতে পারে, সে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু তুমি তার ভুলকে সামনে এনে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি তার ভাইকে কোনো গুনাহের কারণে খোটা দেয়, সে নিজেই সেই গুনাহে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত মারা যাবে না।”
(তিরমিজি, ২৫০৫)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, কারও পাপ নিয়ে বিদ্রূপ করা, তাকে নিচু দেখানো বা তার অতীত নিয়ে অপবাদ দেওয়া ভয়ংকর পরিণামের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
রমাদান: পরিবর্তনের সুবর্ণ সুযোগ:
রমাদান হলো আত্মশুদ্ধির মাস। এটি এমন একটি সময় যখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাদের জান্নাতের পথে পরিচালিত করেন। এই মাসে আমরা যদি নিজেদের সংশোধন করতে পারি, তবে অন্যের ত্রুটি খুঁজে কী লাভ?
তাই, আসুন আমরা আমাদের অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকারমুক্ত করি। কাউকে তার অতীতের পাপের কারণে বিচার না করে বরং তার বর্তমান ভালো পরিবর্তনকে সম্মান করি। হতে পারে, সে এখন আল্লাহর কাছে আমাদের থেকেও বেশি প্রিয়!
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যিকারের তওবা করার তাওফিক দিন এবং আমাদের অন্তরকে সুন্দর ও উদার করে তুলুন। আমিন!
রমাদানুল মুবারক!
এই পবিত্র মাস সবার জন্য কল্যাণ ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসুক!









