মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ীঃরাজবাড়ীতে জেলা বিএনপির আয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলার দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপি’র জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজবাড়ীর আজাদী ময়দানের রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আয়োজনে এখানে জনভাব অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাজবাড়ী জেলা শাখ আহবায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবুর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আকমল হোসেন ও রেজাউল করিম পিনটুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
তিনি বলেছেন, বিএনপির ৩১ দফা কেবল দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষের শুভ পরিবর্তন ঘটাতে চাই। যেটি মানুষ প্রত্যাশা করে। এই পরিবর্তন কোন যাদু বা ম্যাজিক নয় যে, বলবো আর হয়ে যাবে। এজন্য জনগনের আস্থা ধরে রাখার জন্য নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাই আমাদের ভাবনায় শুধুই জনগন, জনগন ও জনগন। শুধু তাই নয়, এই ৩১ দফা বাস্তবয়নের মাধ্যমে আমরা সকল জুলুম নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব।
আমরা প্রতিবারই বলছি সামনের পথ মোটেও মসৃন নয়। বিএনপি’র বিরুদ্ধে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ সকল ষড়যন্ত্র মোবাবেলা করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে দলের নেতাকর্মীদের এক থাকতে হবে। বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মীকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও গত ১৬ বছর গুম খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা আন্দোলন সংগ্রামে শহিদ হয়েছেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে। তালিকা করে শহিদ ও আহতদের খোঁজখবর নেয়া হবে। আমরা বিগত দিনগুলোতে দলীয় ভাবে এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় ভাবে কাজ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ স্থানীয় সকল নেতাকর্মীগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু আরো বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি নিজে রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। আবার দেশ পরিচালনায়ও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। দেশের মানুষকে সংগঠিত করে কিভাবে দেশ গঠন ও পরিচালনা করতে হয় তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই দেশের প্রতিটি কমবেশি নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপিকে মানুষ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় পাঠিয়েছে। এটি বিএনপি’র সবচেয়ে বড় অর্জন। যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন এটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে ১৬ বছরে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা খুন, গুম, হামলা, শত শত গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণের একটি বিশাল অংশ বিশ্বাস করে, আগামীতে দেশের যদি ভালো কিছু হয়, সেটা বিএনপি’র দ্বারাই হবে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ৭১ সালে একটা দল মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে দেশ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গিয়েছিল। আরেকটি দল মহান মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেছে। কিন্তু বিএনপি এমন একটি দল যারা মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীতে দেশ গঠনে নিরলস ভাবে কাজ করে গেছে। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। পুরো জাতি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হলে আমাদের সকল নেতাকর্মীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
বিএনপি জনগণের দল। নিজেদেরকে জনগণের আস্থায় নিয়ে যেতে হবে। নিজেদেরকে শুধরাতে হবে। দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস করে দিয়ে গেছে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার। আগামীর সরকারের জন্য দেশ চালানো হবে এক চ্যালেঞ্জ। কাজেই, আগামীতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে পারবে না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণ করা যাবে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সকল প্রতিশোধ নেবো। আমি মনেকরি, ৩১ দফার বাস্তবায়নই বড় প্রতিশোধ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। এজন্য আমাদের দায়িত্ব অন্য দলগুলোর চেয়েও বেশি।
৩১ দফা নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় খরচ যদি কমানো যায়, দুর্নীতি রোধ করা গেলে বেকার ভাতা সহ অন্যান্য খাতে ভাতা ব্যবস্থা চালু ও ভাতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের প্রশ্রয়ে কিছু মানুষ ঋণের নামে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকার সেটি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। বর্তমান সরকার ব্যাংকগুলোকে আইন ও ব্যাংকিং নীতির আলোকে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে। এখানে বড় চ্যালেঞ্জ, জনগণ ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে সরকার কাজ করবে। আমরাও এটা নিয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের দলীয় আদর্শের না হওয়ায় লাখ লাখ যুবক চাকরি পায়নি। বিএনপি সেই সকল যুবকদের নিয়ে চিন্তা করছে। পতিত স্বৈরাচারের দ্বারা যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রধান বক্তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ফরিদপুর জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ফরিদপুর বিভাগ শাখার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান,
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশিদ হারুন, রাজবাড়ী ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসলাম নিয়া, সদস্য সচিব এডভোকেট কামরুল আলম
প্রমুখ ।








