টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করলেন তাহুরা সুলতানা । ২৫ বছরের এই তরুণী গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে এসে ভ্রমণ শেষ করেন ।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি । ৫১ দিনে ১ হাজার কিলোমিটার পথ পারি দিয়েছেন পায়ে হেঁটে। একা হাঁটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে পথে পথে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন পরিচিত অপরিচিত অনেকেই।
তাহুরা চট্টগ্রামের বাঁশখালী গন্ডামারা ইউনিয়নের রশিদ আহমেদ ও তৈয়বা খাতুন দম্পতির মেয়ে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।
তাহুরা সুলতানা জানান, পরিবারে আমিই সবার ছোট। শৈশব থেকেই পছন্দ ঘোরাঘুরি। যেকোনো চ্যালেঞ্জিং বিষয় নিতে ভালো লাগে। সে হিসেবেই হেঁটে দেশ ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিই। দীর্ঘ এ ভ্রমণে যেখানে বিরতি নিয়েছি সেখানে মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় আমি অভিভূত।
তাহুরা বলেন, ‘সাগর থেকে হিমালয়’ নামের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ক্রস কান্ট্রি হাইকিংয়ের তিনটি পর্ব ছিল। এর মধ্যে ২৯ নভেম্বর টেকনাফ থেকে শুরু করে হেঁটে যমুনার পাড়ে আসা হয়। যমুনা সেতুতে হাঁটার অনুমতি না পেয়ে ১৬ ডিসেম্বর সাঁতরে যমুনা নদী পার হই। সেখান থেকে প্রথম পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো নারী অভিযাত্রী দলের সদস্য হিসেবে শীতকালীন হিমালয় অভিযানে নেপালে চলে যাই। সেখানে ২৫ দিন থেকে আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসি। সেটি ছিল এ অভিযানেরই দ্বিতীয় পর্ব। এরপর তৃতীয় পর্বে গত ১৮ জানুয়ারি যমুনার পাড় থেকে আবারও হাঁটা শুরু করি। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় হেঁটে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছাই।
তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে পৌঁছে ভ্রমণ শেষ করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাহুরা বলেন, তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে এসে ১ হাজার কিলোমিটার মাইলফলক শেষ হলো। স্পেশাল ধন্যবাদ জানাতে চাই এখানকার বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবিকে। তারা আমাকে জিরোপয়েন্টে প্রবেশের সময় শেষ হলেও সুযোগ করে দেওয়ায়। কারণ খুব লেটে চলে আসছি, আসলে আমারই এটা মিসটেক। কারণ আজকে শেষ করতে গিয়ে আমার বিকেল ৫টা বা সন্ধ্যা ৬টা হয়ে যায়। এটার জন্য আমি কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ।
তাহুরা বলেন, আমার এ জার্নির সাথে এই মুহূর্তে ও সাথে যারা ছিল সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আর আমার পুরো জার্নিতে বাংলাদেশের ১ হাজার কিলোমিটার হাইকিং, সাথে যমুনা নদী সাতরানো, সাথে হিমালয়ের তিনটা পাহাড়ের যে অর্জনগুলো ছিল এই জায়গায় শেষ হলো। জার্নিটা শেষ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।










