শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাবি ছাত্রদল নেতা তাহেরকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর অভিযোগ 

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম তাহেরকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নারীকে অপহরণ এবং হুমকির অভিযোগ এনে তাকে হয়রানির করা হচ্ছে উল্লেখ করে গত কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি জিডিও করেন তিনি।

 

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ২৩মে রাবি ক্যাম্পাসের বুদ্ধিজীবী চত্বরের পেছনে ছাত্রদলের টেন্টে আড্ডা দেওয়ার সময় ছাত্রদলের কয়েকজনের উপর হামলা চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে এই ঘটনায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকেই আইনি ঝামেলায় ফাঁসাবে বলে হুমকি প্রদান করে। এমনকি তাকে রাজশাহী ছেড়ে চলে যেতেও বলে। পরবর্তীতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২০২৩ সালের ১৫ই আগস্ট মতিহার থানায় তার নামে একটি অভিযোগ করা হয়। ওমর ফারুক নামের একজনের দ্বারা অভিযোগ করানো হয়। কিন্তু থানায় গিয়ে অভিযোগকারী কিংবা বাদী কাউকে পাননি তিনি। এরপর দুই দফায় মেস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে টর্চার করে ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় এবং মীমাংসা না করলে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেবে এমন হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আতঙ্কিত হয়ে তার বিভাগের দু’জন শিক্ষকের পরামর্শে ও ছাত্রলীগের ধারাবাহিক নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে মুচলেকা প্রদান করে মিমাংসা করতে বাধ্য হম তিনি।

 

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তাহের রহমান বলেন, থানা থেকে ফোন আসার পর বিভাগের একজন শিক্ষককে সাথে নিয়ে থানায় যাই, প্রথমে বলা হয় ওমর ফারুক নামের একজন আমার সম্পর্কে অশোভনীয় আচরণের অভিযোগ করেছেন, আমি নাকি তার বোনের সাথে (সামাউন্নাহার) অশোভনীয় আচরণ করেছি৷ কিন্তু থানায় গিয়ে এই নামের কাউকে পাইনি। সেখানে কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা উপস্থিত ছিল, তারা তাদের সাথে মিমাংসা করার প্রস্তাব দিলে ততকালীন ওসিকে অভিযোগ তদন্ত করার অনুরোধ করে আমি চলে আসি।

 

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ১০ মে রাবি ছাত্রদলের সম্মেলন হওয়ার পর এই মিমাংসিত বিষয়টিকে নিয়ে ডিভোর্সি নারীকে দিয়ে ভুয়া স্টেটমেন্ট দিয়ে আমার বিরুদ্ধে লোকাল একটি ভুঁইফোঁড় পত্রিকায় নিউজ করিয়ে পেপার কাটিং করে বিভিন্ন জনকে পাঠিয়ে আমার আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। পরে আমি থানায় জিডি করি। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ছবি বিভিন্নজনকে মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে বলা হয়েছে নারী কেলেঙ্কারির জন্য গণপিটুনির শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ছবি। এসব কাজ করে মানহানি, ইমেজক্ষুন্ন ও সাইবার ক্রাইমের অপরাধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের নামে মামলা করা হয়েছে।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে সামাউন্নাহারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি রোকেয়া হলে থাকাকালীন সময়ে ছাত্রলীগ নেতাদের চাপে পরিস্থিতির শিকার হয়ে মিথ্যা স্টেটমেন্ট দিতে বাধ্য হয়েছিলাম, তাদের কথা না শুনলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারতাম না।

 

এ বিষয়ে সামাউন্নাহার রত্না বলেন, আমি হলে থাকতাম, ছাত্রলীগ নেতারা চাপ প্রয়োগ করে অভিযোগ দেওয়ায়। এরপরও চাপ প্রয়োগ করে ছাত্রলীগের চাপেই স্টেটমেন্ট দিতে বাধ্য করে। তখন ওদের কথা না শুনলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারতাম না। আমি আসলে পরিস্থিতির শিকার। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি আর কোন ঝামেলা চাইনা।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক আতাউল্ল্যা বলেন, সে সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাহেরকে অনেকভাবেই হেনস্তা করেছে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে জীবন বাঁচাতে মুচলেকা দিতে বাধ্য হয়।

সম্পর্কিত