হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলে আমরা বাংলা মায়ের সন্তান। এর মধ্যে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মিথ্যাচার করবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা দরকার।
সব থেকে ভালো হয়, যে ধর্মের লোকেরা নিজেদের অরক্ষিত মনে করেন তারা চাইলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাথে মিটিং করতে পারেন। মিটিং করে যদি অন্তবর্তীকালীন সরকার আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে যদি কোন রকম আগ্রহ বা সমাধান না করেন তাহলে বড় করে সমাবেশ করেন, আমরাও আপনাদের সমাবেশে যোগ দেবো। আমরা একসাথে লড়বো, যেভাবে লড়ে দেশের এক কেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো হয়েছে ঠিক একই রকমের কায়দায় দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অপরপক্ষে যদি এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য যদি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে হয়ে থাকে তাহলে যারা এই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হোক। ভারতের একটি গণমাধ্যমে শুনলাম যে যারা আওয়ামীলীগ লিডার হিন্দু আছেন তাদের উপর বিপক্ষ দল হামলা চালাচ্ছে। এখানে যদি দলীয়ভাবে কোন হিংসা বিদ্বেষ থাকে তাহলে এটিকে সাম্প্রদায়িক বানানোর কারণ কি? খারাপভাবে একটা প্রচণলিত কথস হলো; আপনারা যেমন নির্যাতন করেছিলেন সেটারই ফিরতিটা শোধ হচ্ছে। কোন রকম সহিংসতা হোক এটা কোন মানবগোষ্ঠী চাইবে না। প্রধানমন্ত্রী ভুল বুঝতে পেরে ভারতে আশ্রয় নিয়ে চলে গেছেন। ওখানে আপাতত উনি সুরক্ষিত। কিন্তু নিজ দেশের থেকে পরের দেশে নিজেকে সুরক্ষিত ভাবা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। সব কিছুর সমাধান আছে, কারা দাঙ্গা বাধাচ্ছেন, কেন বাধাচ্ছেন, এগুলোর একটি কারণ আছে। তিনটি দলীয় ছোট্ট কারণ বলা যেতে পারে;
এক. আওয়ামীলীগের নেতারা এটা করতে পারেন কারন এই সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী হলে আন্তর্জাতিক চাপ আসবে, তাতে তাদের জন্য ভালো কোন ফলাফল আসার কথা নয়। আমাদের দেশের অন্য দেশের সৈন্য সামন্ত এসে আমাদের সবাইকে শাসন করবে, এতে কোন লাভ হবে না এবং সতের বছরের মত নতুন করে পাঁচ ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ শূণ্যের কোটায়।
দুই. বিএনপি সতের বছর পর তাদের উপর দমন পীড়নের প্রতিশোধ নেবে, এতে তারা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবে না। পরবর্তী নির্বাচনেও তারা বিজয়ী হতে পারবে না। বিএনপিরা এতো বছর পর মুক্ত হয়েছে তারা নতুন করে দাঙ্গা হাঙ্গামা বাঁধিয়ে আবার জেলে যেতে চাইবে না।
৩. জামাতের নেতাদের ফাঁসি, হত্যা গুমের প্রতিশোধ নিতে হিন্দুদের উপর নির্যাতন..! নির্যাতন করলে বড় বড় নেতারা করেছে। যে সকল হিন্দু পরিবার দিন আনে দিন খায়, কোন রাজনীতি করে না তাদের উপর কেন প্রতিশোধ নেবে? এমন সকল হিন্দু পরিবাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যারা ভয়ে কাউকে কিছু বলে না। দুষ্কৃতিকারীরা এমন সকল বাড়ি নির্বাচন করে অত্যাচার করছে যাতে তারা কোন রকম প্রতিবাদ করতে না পারে। এখানে স্পষ্ট ধারণা করা যায় যে এই অত্যাচার অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আমাদের দেশে যারা সাম্প্রদায়িক গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করে তারা সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টিকর্তা। বাংলাদেস এক জাতি সত্ত্বার দেশ। এই দেশে সাম্প্রদায়িকতা করবে একমাত্র বাংলাদেশ বিরোধীরা। এই বাংলাদেশ বিরোধীরা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে মিথ্যা প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে দেশের মধ্যে একটি ষড়যন্ত্র তৈরী করতে চাচ্ছে। এদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব সকলের। যদি তাদের খুঁজে বের করা না যায় তাহলে বাংলাদেশের অসামান্য ক্ষতি সাধিত হবে।
আমাদের বাংলা মায়ের সন্তান একেকজন একেক রাজনৈতিক দলের, ধর্মের, বর্ণের, ভাষার, সাংস্কৃতির হবে। তবেই আমরা বলতে পারবো আমরা গণতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশের সন্তান।
মাইদুল ইসলাম।
নাইরোবি কেনিয়া।






