মোঃ নুরুল ইসলাম,বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার চরাঞ্চলের দু-একটি রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা মিললেও বিভিন্ন মিডিয়া অসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় তা অনেক গুন বেড়ে গেছে। ফলে কালুখালী, পাংশা ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোর মানুষ এর আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অহেতুক গুজব ছড়ানোর কারণে জরাঞ্চলের চাষাবাদ্দেকৃত ফসল পরিচর্যার শ্রমিকের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকা গুলোর হাট-বাজার, চায়ের দোকানসহ সর্বত্র চলছে রাসেলস ভাইবার সাপের গুজব ছড়ানোর গল্প।
দেশ থেকে এই প্রজাতি টি বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০২০ সালে প্রথম কালুখালী উপজেলার লস্করদিয়া নায়াপুর চরে বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া সাপের সন্ধান মিলে। এই সময় সাপটি মারতে গেলে কালুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এটিকে মারতে নিষেধ করেন। সময় তার অনুরোধে সাপটিকে না মেরে জীবিত ধরে ফেলেন। পরে সেটিকে কালুখালী সর্প খামারে পালনের জন্য দেওয়া হয়।
এর দুই বছর পর বেলগাছির পুরাতন বাজার এলাকায় এক মাছ ধরা ছেলের দুয়ারীতে ১টি রাসেলস ভাইপার আটকা পড়ে। সেটি ধরা পড়ার পরপর স্থানীয়রা মেরে মাটিতে পুঁতে রাখে। এরপর আর কালুখালী উপজেলার চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইবার বা চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মেলিনি। প্রতিদিন নদীর স্রোতের গতিতে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে রাসেলস ভাইবার সাপ আতঙ্ক।
রোববার (৩০ জুন) বিকালে কালুখালী বাজারের নজরুলের চায়ের দোকানে গল্প চলছিল রাসেলস ভাইবার নিয়ে। গল্পে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৪০ থেকে ৭০ বছর। অনেকেই বলেন, জীবদ্দশায় এই সাপ দেখিনি। মোবাইলে মোবাইলে দেখে মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইসরাত জাহান উম্মন বলেন, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে দংশন করা রোগী পেয়েছি। তবে রাফেলস ভাইবার বা চন্দ্রবোড়া সাপে দংশন করা রোগী পাইনি। এ সাপে কারো দংশন করলে দ্রুত দংশনকৃত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরো জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিবেনাম মজুদ রয়েছে। সময় মত হাসপাতলে আনলে রোগীকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, সাপে দংশন করলে ক্ষতস্থান নাড়াচাড়া, ধুয়া মশা না করে হাসপাতালে আনলে বেশি ভালো হয়।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহুয়া আফরোজ বলেন, আদিকাল থেকেই চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া সাপ আমাদের দেশে আছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্চরাঞ্চলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সাপের দেখা মেলেনি।






