মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে বিলিন ফসলি জমি

সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ

গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা ঢলে
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উজানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।
অব্যাহত ভাঙনে তোষাপাটসহ নানাবিধ ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে
উপজেলা কাপাশিয়া, হরিপুর শ্রীপুর ও চন্ডিপুর ইউনিয়নে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে
বিলিন হয়ে গেছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া এক চর হতে অন্য চরে যাওয়া আসা করা সম্ভব হচ্ছে
না। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে
প্রবাহিত তিস্তা নদী ।

প্রতিবছর তিস্তায় পানি বাড়ার সাথে
সাথে বা বন্যা আসলেই শুরু হয় নদী ভাঙন। চলতে থাকে বছর ব্যাপী। নদী পাড়ের মানুষের দাবি, স্বাধীনতা
পরবর্তী দীর্ঘ দিনেও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ, ড্রেজিং, নদী খনন, ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেনি সরকার। যার কারণে প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, হাজারও
একর ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। অথচ
দেখার কেউ নাই । সামান্য ত্রান বিতরণ করে দায় এড়িয়ে যান সকলে।

প্রতিবছর নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদী জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। একজন চরবাসিকে মৌসুমে কমপক্ষে ২ বার ঘরবাড়ি সরাতে হচ্ছে। কিন্তু আজও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধের কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনজু মিয়ার দাবি
নদী খনন, ড্রেজিং, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ কল্পে বহুবার চাহিদা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু আজও কোন ব্যবস্থা
সরকারের পক্ষ হতে নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে।

স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানো না হলে চরবাসির দুঃখ কোন দিনও দূর হবে না।

ভাঙনে প্রতিবছর পাঁচ শতাধিক
বসতবাড়ি এবং হাজারও একর ফসলি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে
তিস্তার ভাঙনে তোষাপাটসহ অন্যান্য ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে । এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনুমান করা যায়নি ।

সম্পর্কিত