সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বেরোবিতে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের

বেরোবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি (বেরোবি): রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (০৬ মে) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলার দাবি তোলে বিভাগটির প্রায় দুই শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে দপ্তরে থাকার পরও উপাচার্য দেখা না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের ফটকদ্বয় অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় প্রশাসনবিরোধী স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো প্রশাসনিক ভবন। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবন থেকে বের হতে এবং ঢুকতে না পেরে একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরে বিকাল পাঁচটা নাগাদ রবিবারের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলতে এসে শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ। পরে শিক্ষার্থীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

জানা যায়, প্রায় দুই মাস হতে বিভাগীয় প্রধানের পদ শূন্য থাকায় অচল হয়ে পড়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। ক্লাস-পরীক্ষার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে আছে প্রশাসনিক কাজকর্মও। এ অবস্থায় গত রবিবার থেকে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম গত ১০ মার্চ বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর আইন ২০০৯ এর ধারা-২৮(৩) অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রম অনুযায়ী ‘বিভাগীয় প্রধান’ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথা বিভাগের অপর সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধানের। কিন্তু তা না করে আইনি জটিলতার কারণ দেখিয়ে সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহারকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। নিয়ামুন নাহার উক্ত পদে যোগদান করতে অস্বীকৃতি জানালে দ্বিতীয়বার আইন লঙ্ঘন করে অপর জুনিয়র সহকারী অধ্যাপক সারোয়ার আহমাদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তিনিও যোগদান করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এরপর আবারও আইন লঙ্ঘন করে অপর সহকারী অধ্যাপক মো. রহমতুল্লাহকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১০ মার্চ থেকে বিভাগীয় প্রধান শূন্য হয়ে আছে বিভাগটি। এর ফলে বিভাগের সকল কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আইন অনুযায়ী তাবিউর রহমান প্রধানকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদানের জন্য আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আইন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করে বিভাগের কার্যক্রম দ্রুত সচল করা হোক। সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। কিন্তু উপাচার্যের সঙ্গে কথা না হলে কোনো বিষয় শুনবেন না জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ উপাচার্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দ্বারা বেষ্টিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে কথা বলতে আসেন এবং রবিবার নাগাদ আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই সমস্যা মূলত আইনি জটিলতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এক সপ্তাহের সময় নিচ্ছি। আগামী রবিবারের মধ্যেই এ বিষয়ে সমাধান আসবে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সঙ্গে আরও কথা বলতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন এবং দুর্ব্যবহার করেন।

এ বিষয়ে বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবিকে প্রশাসন মেনে নিচ্ছেন না। বিভাগীয় প্রধান না দিয়ে বরং তালবাহানা করছেন। তাই যতদিন পর্যন্ত না এই সমস্যার সমাধান হয় আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছি।

সম্পর্কিত