শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

শীতের আগমনে নব রূপ বেরোবির

রুশাইদ আহমেদ, (শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেরোবি:
হিমেল সন্ধ্যা। একে একে জ্বলে উঠছে ক্যাম্পাসের ব্যাডমিন্টন কোর্টগুলোর আলো। হিমেল হাওয়াকে গায়ে মেখেই বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ভিড় জমাচ্ছেন সেই কোর্টগুলোতে, কেউবা আবার বিকেলে শুরু হওয়া ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ শেষে ফিরে যাচ্ছেন ক্যাম্পাস হতে কিংবা কেউ কেউ মেতে উঠছেন বন্ধুদের সাথে তুমুল আড্ডায়—এই হলো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি) এর শীতকালীন সন্ধ্যার নৈমিত্তিক চিত্র।

সময়ের সাথে ক্রমবর্ধমান শীতের তীব্রতায় বৃক্ষের পাতাগুলো ঝরে পড়ে যে নিষ্প্রাণতার প্রতীক হয়ে ওঠে, সে প্রতীকের প্রতিচ্ছবি কিন্তু দেখা যায় না শীতকালে বেরোবি প্রাঙ্গণে। প্রতিটা শীতের সকালে কুয়াশায় আবৃত ও ঝরা শিউলিতে ভরা ক্যাম্পাস নবীণ ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ভরে উঠতে শুরু করে। দিনভর ক্লাস, প্রেজেন্টেশন ও পরীক্ষার ফাঁকে সূর্যের নরম আলোয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ, অ্যাকাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণ, প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন বাগান, স্বাধীনতা স্মারক ও তৎসংলগ্ন মাঠ এবং শহিদ মিনারে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই শিক্ষার্থীদের সাথে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। নানা ধরনের শীতের পোশাকে দেহ আবৃত করে ঘুরে ঘুরে দেখেন তাঁরা ৩০০ প্রজাতির ৩৬ হাজার বৃক্ষের বৃহত্তর শিশিরভেজা অঙ্গন। এছাড়াও বিকেল হতে অন্যান্য সময়ের মতোই ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা চলতে থাকে বেরোবির সেন্ট্রাল মাঠ, হল মাঠসহ অন্যান্য মাঠগুলোতে শীতের এই হিমেল আবহের মধ্যেই।

পাশাপাশি নভেম্বরের মাঝামাঝি ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা স্মারক মাঠ ও অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরিকৃত ব্যাডমিন্টন কোর্টে সন্ধ্যা নামতেই ব্যাডমিন্টন খেলায় মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি একেক দিন একেক বিভাগের শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর সামনে আয়োজন করেন চড়ুইভাতির। যা এক আনন্দঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের জন্য।

শীতের আগমনে বেরোবির এই নব ধারণকৃত রূপের বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, শীতকালে সারাদিন ক্লাস শেষে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা-খুনসুটিতে মেতে ওঠা অনেক আনন্দের। আর তার সাথে মাঝে মাঝে বন ফায়ার জ্বালিয়ে মজা করার অনুষঙ্গও ভিন্ন রকমের অনুভূতির সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও এক শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো চায়ের টং না থাকায় আমাদের আড্ডাগুলো পূর্ণতা পায় না। ফলে ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে দিতে চা খেতে চাইলে হেঁটে যেতে হয় পার্কের মোড়ে। ক্যাম্পাসে যদি সেরকম কোনো সুবিধা থাকতো তবে বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে ধোঁয়া-ওঠা চায়ের সাথে আড্ডা দেওয়ার মুহূর্তগুলো আরো স্মৃতিময় হয়ে উঠতো।

সম্পর্কিত