সোহেল রানা, লালমনিরহাটঃ উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ২০০ জনেরও বেশি শিশুকে এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ফলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র স্থান সংকট দেখা দিয়েছে, যা অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের ৪০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ। অনেকেই শয্যা না পেয়ে শীতের মধ্যে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো শীতজনিত রোগে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে।
পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের হাতেমা আক্তার (৩৬) জানান, “আমার এক বছরের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। শয্যা না পেয়ে বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই ঠান্ডায় মেঝেতে থাকার কারণে আমাদের আরও কষ্ট হচ্ছে।”
হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার রায় জানিয়েছেন, “শীতের কারণে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা কেবলমাত্র গুরুতর অবস্থার রোগীদের ভর্তি করতে পারছি। বেশিরভাগ রোগী সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।” তিনি পরামর্শ দেন, শীতের সময় শিশুদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরানো, তাজা ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং গরম পানি পান করানোর।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, “প্রতিবছর শীতকালে এমন রোগীর চাপ বাড়ে। ধুলাবালি ও ঠান্ডা থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে হবে। শিশুদের মায়ের বুকের দুধ এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাবে প্রতিবছর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সচেতনতা জরুরি।








