মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রৌমারীর ইজলামারী সীমান্তে সড়ক সংস্কার করলো বিজিবি ও ছাত্র-জনতা

জিন্নাত আরা জেমিন:কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিজিবি মোড় থেকে ইজামারী ক্যাম্পের দূরত্ব ১ কিলোমিটার। এ কাঁচা সড়কটি উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইজলামারী-ভারত সীমান্ত ঘেসা। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ, সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি। সংস্কারের অভাবে উপজেলার চার গ্রামের প্রায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ বৃদ্ধ রোগী, স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও টহলরত বিজিবি সদস্যরা দুর্ভোগের শিকার হতেন। সড়কটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও কোন সুফল মেলেনি এলাকাবাসির। অবশেষে বুধবার(২৮ আগস্ট) স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি সংস্কার করেছে বিজিবি ও ছাত্র-জনতা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক সংস্কারে কাজ করা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালের বন্যার সময় রাস্তাটি মারাতকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরপর স্থানীয় ব্যক্তিরা চাদা তুলে রাস্তাটি সংস্কার করে। কিন্তু গত বন্যায় রাস্তাটি ডুবে গিয়ে উপজেলা বিজিবি ক্যাম্প মোড় থেকে ইজামারী পর্যন্ত ১ কিলোমিটার এলাকা চলাচলে অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি সংস্কারের দাবীতে আবেদন করেও ফল পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই স্থানীয় ছাত্র ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিজিবির সদস্যরা রাস্তাটি নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করে।
ইজলামারী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটি এলাকার মানুষের কাছে গলার কাটা হয়েছিল। এ জনদুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে কাজ করছে ছাত্র সমাজ ও বিজিবির সদস্যরা। এতে এলাকাবাসী চলাচলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে।
ইজলামারী ছাত্রদের প্রতিনিধি সোলইমান সরকার বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দের মধ্যে দিয়ে বিজিবি সদস্য, স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী ও ১০ হাজার এলাকাবাসী ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করেছিল। এ কারণে জনদুর্ভোগ নিরসনে বিজিবি, ছাত্রসমাজ মিলে সড়কটি মেরামত করা হয়। এখন এ এলাকার মানুষ এ সড়কটিতে ঝুকি মুক্ত ভাবে চলাচল করতে পারবে। ফলে কমে আসবে সড়ক দুর্ঘটনা।
রৌমারী ইজামারী বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মোতাহের আলী জানান, আমাদের টহল জোরদার করতে ও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে। এতে করে সীমান্তে টহল জোরদারসহ এ সড়কে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মনছুরুল হক বলেন, এ রাস্তাটির জন্য কোন বরাদ্দ ছিল না। তাই এতোদিন সংস্কার করা হয়নি। বরাদ্দ পেলে এ রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।

সম্পর্কিত