বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রৌমারীতে প্রভাবশালী নার্সের দাপট: অবরুদ্ধ ২৫ পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

 

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর ইউনিয়নের রৌমারী গ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় এক প্রভাবশালীর স্বেচ্ছাচারিতায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ২৫টি পরিবার। গত এক সপ্তাহ ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত শতাধিক মানুষ এখন নিজ বাড়িতেই ‘বন্দি’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগের তীর রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স হোসনে আরা খাতুনের দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গত ২০ বছর ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন। এমনকি ২০১৩ সালে এক শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এবং ৩৩ হাজার টাকা গ্রহণের বিনিময়ে রাস্তাটি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হোসনে আরার স্বামী নুরুন্নবী (সজিব)। তবে সম্প্রতি হোসনে আরা ওই স্থানে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ শুরু করলে পূর্বের রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে করে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সাইকেল নিয়ে ঢোকা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকল্প কোনো পথ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম জানান, “দীর্ঘদিন এই রাস্তা ব্যবহার করলেও হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।” গৃহবধূ জায়দা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এই রাস্তাটি খুলে দেওয়া হোক।” দায় এড়ানোর চেষ্টা ও প্রশাসনিক জটিলতা
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল করিম আক্ষেপ করে বলেন, “রাস্তা বন্ধ করা একটি অমানবিক কাজ। হোসনে আরার সাথে একাধিকবার বসার চেষ্টা করলেও তিনি এলাকার মাতাব্বর বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কোনো তোয়াক্কাই করছেন না।” এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত নারীকে এলাকাবাসীর সাথে বসে সুষ্ঠু সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি সভ্য সমাজে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেখানে প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অবগত, সেখানে এক সপ্তাহ ধরে ২৫টি পরিবার অবরুদ্ধ থাকা কাম্য নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি চাকুরিজীবী হওয়ায় তার দায়বদ্ধতা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অনতিবিলম্বে রাস্তাটি উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।

সম্পর্কিত