শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীর রবিউল শরীরে গুলি বহন করেই ছুটছেন জীবিকার তাগিদে

মোঃ নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী:

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পাঁচপোটরা গ্রামের হোসেন আলী খানের ছেলে রবিউল খান (৪৭)। নরসিংদী জেলার মাধবদীতে বাসা ভাড়া করে নছিমন চালিয়ে তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে জীবিকানির্বাহ করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাতটি গুলি বিদ্ধ হয়। চিকিৎসক ও বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটাছুটি করে ছয়টি গুলি বের করতে পারলেও থুতনিতে লাগা গুলিটি বের করতে পারছেন না। গুলিবিদ্ধ শরীরে যন্ত্রণা নিয়েই জীবিকার তাগিয়ে ছুটে চলেছেন রবিউল খান।

জীবন ও জীবিকার তাগিদে ১১ বছর আগে নিজ জেলা রাজবাড়ী ছেড়ে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় বাসা ভাড়া থেকে নছিমন চালানো শুরু করেন রবিউল খান। সেদিনের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সমর্থন দেই। তাদের আন্দোলনে আনা-নেওয়ার কাজ করি। গত ১ জুলাই মাধবদী থানার সামনে আন্দোলন চলাকালে আমার শরীরে চারটি রবারবুলেট বিদ্ধ হয়। স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে গুলিগুলো বের করানো হয়। তখন মনে জেদ চাপে- জীবন গেলেও আন্দোলন সফল করতে হবে। ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারকে হঠাতেই হবে। পরদিন আবার শিক্ষার্থীদের নছিমনে নিয়ে যাই। ২ জুলাই মাধবদীতে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করা হয়। ওই দিন আবার তিনটি গুলি লাগে আমার গায়ে। অন্যগুলো বের করতে পারলেও থুতনির ভেতর থাকা একটি গুলি বের করতে পারিনি। পরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গলের গ্রামের বাড়ি চলে আসি।

এর পর বালিয়াকান্দি হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসকরা থুতনিতে লাগা গুলি বের করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, গুলি বের করতে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এখন কী করব, কীভাবে গুলি বের করব; কিছুই বুঝতে পারছি না! দীর্ঘশ্বাস আরও দীর্ঘ হয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত এই সাহসী যোদ্ধার।

কিছুক্ষণ দম নিয়ে রবিউল খান আবার বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন দিয়েছি। ছাত্র সমন্বয়কদের কাছেও কাগজপত্র দেই। অসুস্থতার কারণে কাজ না করে প্রায় দেড় মাস বাড়িতে কাটাই; কিন্তু পেট তো কিছু মানে না! স্ত্রী, ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। ওরাই বা না খেয়ে কয়দিন থাকবে…? এ কারণে অসুস্থ অবস্থায় বুলেটের যন্ত্রণা নিয়েই আবার মাধবদীতে এসে নছিমন গাড়ি চালিয়ে জীবনযাপন করছি। সরকারি উদ্যেগে আমার থুতনিতে থাকা গুলিটা বের করার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি। আমার আর কোনো চাওয়া নেই। দেশ ভালো চলুক। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক।

সম্পর্কিত