স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী:
” কেউ কথা রাখেনি, শুধুই আশ্বাস দিয়েছেন, পরপর চারবার ভাঙ্গনের পর এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি, এখন ভেঙ্গে গেলে রাস্তায় থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ” দোকানের আয় দিয়ে কোনরকমে সংসারটা বলতো, এখন কখন জানি দোকানটা পদ্মায় নিয়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায় আছি।” মনে অনেক আবেগ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ নং ফেরী ঘাটের বাহিরচরের সাত্তার মেম্বার পাড়ার আব্দুল বারেক মৃধা। শনিবার বিকালে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা মিলে একত্রে কাজ করছে শেষ আশ্রয়স্থল টুকু রক্ষার জন্য। অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক এই দৃশ্য।
দেখা যায় পাঁচ বছরের শিশুটির কামলা ভর্তি বালু নিয়ে সাধারণ বস্তা পড়তে। বাড়ির মহিলারাও বসে নেই। এ সময় সেখানে দেখা যায়নি স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধিদের। এবারের ভাঙ্গন দেখে সবাই মিলে প্রাণপণে চেষ্টা করছে বাড়িটা কে রক্ষা করতে। এলাকার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, আনসার শেখ, জয়নাল শেখ, মতিন বেপারী সহ সকলেই কাজে লেগেছেন সেই সাথে পরিবারের লোকজন সবাই।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খরস্রোতা পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। বর্ষা মৌসুমের আগেই পদ্মার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে নদীপাড়ের লোকজনের মাঝে চরম হতাশা। দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। গত কয়েকদিনের নদীর ভাঙ্গনে দৌলতদিয়া ৬ নং ফেরিঘাট সংলগ্ন রাস্তা সহ তায় ২০ মিটার পদ্মা নদী গর্ভ বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে রয়েছে এই এলাকার অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। হুমকির মুখে রয়েছে চাঁন খার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ দুইটি ফেরিঘাট।
এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা পাড়ের সাধারণ মানুষ ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে। প্রতিবছর পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলানো হলেও স্থায়ীভাবে এই ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।








