মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী:
“নদীর একুল ভাঙ্গে, ওকুল ঘরে এইতো নদীর খেলা” প্রতিবছরই একইভাবে চলে রাক্ষসী পদ্মা নদীর ভাঙ্গন। এর ফলশ্রুতিতে প্রতি বছরই ভিটামাটি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পদ্মা পাড়ের মানুষ।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নদীভাঙন, প্রতি বছরেরই একটা বড় সমস্যা। নদী ভাঙতে ভাঙতে গোয়ালন্দ উপজেলার মানচিত্র অনেক ছোট হয়ে গেছে। নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় পাড়ের বাসিন্দারা প্রায় নিঃস্ব হওয়ার পথে। তবে নেই কোনো কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধির নজর। প্রতি বছর ভাঙতে ভাঙতে শেষ হওয়ার পথে এ উপজেলা। তবুও হচ্ছে না নদীশাসন বা স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা।
প্রায় এক মাসের অধিক সময় ধরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় তীব্রভাবে নদীর পাড় ভাঙলেও প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে প্রায় কয়েক হাজার পরিবার, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে ভাঙনরোধে অতি দ্রুতই কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন দুটি পদ্মার ভাঙনের শিকার প্রতি বছর। আর এটা এ উপজেলার বড় একটা সমস্যা। নদী ভাঙন সমস্যাটা এ উপজেলার দীর্ঘ বছরের সমস্যা।
পদ্মার ভাঙনে বাপ দাদার ভিটে মাটি এবং বাপ দাদার শেষ সম্বলটুকু কবরের চিহ্নটুকুও চলে গেছে নদীগর্ভে। নদী ভাঙনের শিকার এ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তবুও স্থায়ীভাবে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এটা দীর্ঘ বছরের সমস্যা হলেও জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষের নেই কোনো বিশেষ নজর। আর কর্তৃপক্ষের নজর না থাকায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙছে পদ্মার পাড় এবং সব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকাবাসী। পদ্মায় যখন পানি আসে এবং যখন নদীর পানি কমে যায় সাধারণত এ দুটি সময়ই ভাঙনের মাত্রা তীব্র হয়। আর এসময়ই নামমাত্র ফেরিঘাট রক্ষার্থে কাজ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা এটা করছে, আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমরা তো আমাদের তরফ থেকে চেষ্টা করছি। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত একটা প্রকল্প দিবেন।
তিনি আরও বলেন, পাড়ের বাসিন্দারা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করছে, এখানে চাইলেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করতে পারে না। এখানে নদী নিয়ে দুইটা কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ড আছে এবং বিআইডব্লিউটিএ আছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি। আর পাড়ের বাসিন্দারা যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছেন, তাদের যদি কোনো সাহায্য সহযোগিতা লাগে আমরা করব।










