শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বেরোবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ঐশী, বেরোবি প্রতিনিধি:”এসো বনফুলেরা জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে নিজ শেকড়কে আলোকিত করি” এই প্রত্যয় নিয়ে ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো নবীনবরণ ও বিদায়ী সংবর্ধনা। শনিবার ১৮ মে এই নবীন বরণ ও বিদায়ী সংবর্ধনা হয়।

অনুষ্ঠানটি ইংরেজি বিভাগের ১৪ তম ব‍্যাচের শিক্ষার্থী খ‍্যাইসাঅং মারমা’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব‍্য রাখেন ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস্ অ‍্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ফনে বিকাশ ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিনা মুরমু। প্রধান অতিথির বক্তব‍্যে রিনা মুর্মু বলেন, আমরা আদিবাসী। বাংলাদেশ সরকার আমাদেরকে সংবিধানে ২৩ নং (ক) ধারায় উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কিন্তু আমরা উপজাতি হিসেবে নয় আমরা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এই সংগঠন আমাদের আত্নিক ও প্রানের সংগঠন। এই সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়দর্শী চাকমা, বাসিল তপন মুরমু, দানেশিউশ মার্ডী, উত্তম কুমার, সুনিল হাঁসদা, সুরেশ টুডু। সভাপতিত্ব করেন মিখায়েল মার্ডী।

প্রধান আলোচক প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত থেকে নিজের জ্ঞানকে বিকশিত করতে হবে। আদিবাসী শিক্ষার্থী হিসেবে নিজ সমাজের ছেলে-মেয়েদের উৎসাহ ও সহযোগিতা করতে হবে যাতে তারাও শিক্ষায় এগিয়ে আসতে পারে। মেধা, মননশীল এবং সৃজনশীল কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে লিসা চাকমা বলেছেন- আমি একজন নবীন, নিজের পরিবারকে ছেড়ে এতদূরে একজন মেয়ে হিসেবে থাকাটা সত্যি অনেক কষ্টকর। নিজের পরিবারের অভাব টা এই সংগঠন পূরণ করেছে। পাশাপাশি বাড়িতে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে, অসুস্থ হলে ভাই ও বোনেরা সাহায্য করেন। আজকে এই সুন্দর আয়োজনের জন্য আমি সত্যি অনেক আনন্দিত। তাদের আন্তরিকতা, উপদেশমূলক কথাবার্তা, সিনিয়র জুনিয়রদের মিলবন্ধন সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি সত্যি ভালো ছিল।

পরিশেষে, সংগঠনের সভাপতি মিখায়েল মার্ডি’র বক্তব‍্যের মধ‍্য দিয়ে সভা সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

সম্পর্কিত