নিজস্ব সংবাদদাতা:কুড়িগ্রামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশের চাইল্ড, নট ব্রাইড প্রকল্পের আওতায় জেলার ৯ উপজেলার অধিক ঝুকিপূর্ণ ১২০০ কিশোরীদের মধ্যে ৩০ জনকে নিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৪৫ দিনব্যাপী কর্মপ্রস্তুতি জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ পরবর্তী সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল রোডে টেরেডেস হোমস ফাউন্ডেশন হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরডিআরএস এর অর্থায়নে কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এই প্রশিক্ষণ কার্যাক্রম বাস্তবায়ন করেন। প্রশিক্ষণে ৩০টি বাল্যবিবাহে ঝুকিপূর্ণ পরিবারের ৩০ জনকে ডিজিটাল মার্কেটিং, টেইলারিং এন্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল সার্ভেসিং, বিউটিফিকেশন এবং ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে ৪৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের শারমিন আক্তার। তিনি জানান, পরিবারে অসচ্ছলতার কারণে ষষ্ট(১৩ বছর) শ্রেণীতে পড়ার সময় ছোটবোনের বাল্যবিবাহ ব্যবস্থা পরিবার। পরে আরডিআরএস এর চাইল্ড নট ব্রাইড প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবকরা পরিবারে বুঝিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। তারা আমাকে কম্পিউটার বেসিক অপারেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেন। ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে আমি কম্পিউটার জ্ঞান লাভ করে খণ্ডকালীন পেশায় যুক্ত হয়েছি। আমি আমার আয় দিয়েই বোনকে পড়াবো বলেও তিনি জানান।
আরডিআরএস বাংলাদেশের চাইল্ড, নট ব্রাইড প্রকল্পের সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ৮ হাজার ৬৬৬টি পরিবার বাল্যবিবাহের ঝুকিতে রয়েছে। আমরা অধিক ঝুকিপূর্ণ বিবেচনায় ১২০০ পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কর্মপ্রস্তুতি, জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। ইতিমধ্যে ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমূখি করেছি। এখন ওই পরিবারগুলো বাল্যবিবাহ মুক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ অভাব বলেও তিনি মনে করেন।
বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা পরিবার সমূহের সদস্যদের মধ্যে ৪৫ দিনব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান – কর্মপ্রস্তুতি ও জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানহা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এর অধ্যক্ষ আবুজাহিদ মো. মাসুম, আরডিআরএস বাংলাদেশের চাইল্ড, নট ব্রাইড প্রকল্পের সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং টেকনিক্যাল অফিসার সোহেল রানা প্রমূখ।










