শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বালিয়াকান্দিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭৪তম অমর একুশে উদযাপন

 

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী ঃ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা ০১ মিনিটে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্য ৫২ এর ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। বালিয়াকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

রাত ১২টা ১ মিনিটে বালিয়াকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৫২ ভাষা শহীদদের প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজবাড়ী -২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি -কালুখালী) সংসদীয় ২১০ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য গণমানুষের নেতা মোঃ হারুন অর রশিদ হারুন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এহছানুল হক শিপন, উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রব তালুকদার, পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ,সাংবাদিক, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, আনসার- ভিডিপি, উপজেলা বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল,ওলামাদল,ছাত্র দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন,  বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক, ছাত্র – ছাত্রী সহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত।

১৯৫২ সালের এদিনে ‘‘বাংলাকে’’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসক গোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ অতর্কিতভাবে গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা ও অনেকে সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রং ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে।

একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা শহীদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহীদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, ইত্যাদি জনসচেতনতামূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত