শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নিখোঁজের তিন দিন পর কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন

বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নিহত কলেজছাত্রী ধরিত্রী রানী (১৮) সাকোয়া ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ক্ষিতিষ রায়ের একমাত্র মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ধরিত্রী রানী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবা বোদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে নিখোঁজের তিন দিন পার হলেও মেয়েটির কোনো খোঁজ না পাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত বাড়ির পাশের পুকুরেই মরদেহ পাওয়া—এটি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক প্রতিবেশী গৃহবধূ পুকুরে ভাসমান চুল দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দিলে বোদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ধরিত্রীর বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ধরিত্রী কীভাবে এবং কখন পুকুরে পড়লেন? এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম মালিক বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, কেবল আনুষ্ঠানিক তদন্ত নয়, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি। পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত