শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নাটোরে নারী নির্যাতনের মামলায় সাবেক এসপি কারাগারে; সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরে নারী নির্যাতনের মামলায় ময়মনসিংহ রেঞ্জে সংযুক্ত বরখাস্তকৃত সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম ফজলুল হককে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

আদালতের নির্দেশের পর কোর্ট পুলিশ আসামিকে কোর্ট ইন্সপেক্টরের কক্ষে বসতে দেয়। পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে কারাগারে নেওয়ার জন্য বের করার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাবেক এসপি ফজলুল হক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এ সময় এখন টেলিভিশন, সময় টেলিভিশন ও এনটিভির কয়েকজন ক্যামেরাপারসন আঘাতপ্রাপ্ত হন। আসামির হামলায় কিছু ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ আসামিকে আদালতের হাজতে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে নাটোরের সাংবাদিকরা আদালত চত্বরে অবস্থান নেন এবং দাবি জানান, অন্যান্য আসামির মতো ফজলুল হককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কারাগারে নেওয়া হোক।

পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের উপস্থিতিতে আসামিকে কারাগারে নেওয়া হয়।

**সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া**

এখন টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন জাহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, *”আমরা ভিডিও ধারণ করছিলাম, তখনই আসামি আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করে। ক্যামেরা বাঁচানোর সময় আমাদের হাতেও আঘাত লাগে।”*

যমুনা টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি ও নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, *”একজন আসামির দ্বারা কোর্ট চত্বরে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত। তিনজন ক্যামেরাপারসন আহত হয়েছেন। যদি আসামিকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নেওয়া হতো, তবে এ ঘটনা ঘটত না।”*

**নারী নির্যাতনের অভিযোগ ও মামলার পটভূমি**

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মোছাঃ মেহনাজ আক্তার তার স্বামী পুলিশ সুপার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, এসপি ফজলুল হক তাকে ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন এবং তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল।

মামলার পর ফজলুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করে ময়মনসিংহ রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মেহনাজ বর্তমানে তার দুই কন্যাসন্তান নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মুশফিক হাসান জানান।

ফজলুল হক নাটোর শহরের মোহনপুর এলাকার বাসিন্দা, আর তার স্ত্রী মেহনাজ নাটোরের লালপুর উপজেলার বাসিন্দা। তবে বর্তমানে তিনি রাজশাহীতে তার বোনের বাসায় অবস্থান করছেন।

সম্পর্কিত