আব্দুল লতিফ সরকার,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
উত্তাল স্রোত আর ভাঙনের ঝুঁকির মাঝেই বেড়ে ওঠা তিস্তা চরের শিশুদের জীবনে আশার আলো ছড়াচ্ছে একটি তরুণ নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ। তিস্তা নদী-পাড়ের চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা এই অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা কেন্দ্র ইতোমধ্যে শত শত পরিবারের জীবনে টেকসই পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা তরুণ সমাজকর্মী মোঃ নাঈম রহমান। ছোটবেলা থেকেই চরাঞ্চলের বৈষম্য ও সুযোগের ঘাটতি তাকে ভাবিয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি যাত্রা শুরু করেন লালমনি বিদ্যাপীঠের। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি অভিভাবক সচেতনতা, আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ,শিশুশ্রম,মাদক প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
নাঈম রহমান জানান, “চরাঞ্চলের শিশুরা মেধায় পিছিয়ে নয় পিছিয়ে সুযোগের অভাবে। শুধু শিশু নয়, পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারলেই টেকসই পরিবর্তন আসে।”
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ নিম্নআয় পরিবারকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকারে যুক্ত করা হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক সচেতনতা ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি উঠানভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠচক্র, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও বিশেষ ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। চরাঞ্চলের নারী ও পুরুষদের জন্য হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও সবজি চাষের মতো আয়বর্ধক কর্মসূচির ফলে অনেক পরিবার এখন নিজেরাই সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে পারছে।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “লালমনি বিদ্যাপীঠ শুধু পড়াশোনা শেখায় না,আমাদের সন্তানকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।”
নাঈম রহমান দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে ত্রাণ বিতরণ, মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি ইফতার বুথ ও বই বিনিময় উৎসবসহ অর্ধশতাধিক মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে লালমনি বিদ্যাপীঠের কার্যক্রম।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন একটি কার্যকর সামাজিক মডেলে রূপ নিয়েছে যেখানে শিশু, পরিবার ও সমাজ তিন স্তরেই পরিবর্তনের কাজ চলছে।
ভবিষ্যতে তিস্তা অববাহিকার প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানো এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য চরাঞ্চলেও এই ফ্রেমওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্য নাঈম রহমানের।
তার ভাষায়, “স্কুল বয়স থেকেই মানবিক মূল্যবোধ আর সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে পারলেই বদলে যাবে দেশের প্রান্তিক শিশুদের ভবিষ্যৎ।”











